জাতীয়

কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল

পাঁচ দশক আগের পাপ। দ্রেশদ্রোহিতা, মানুষ হত্যা, ধর্ষণের মত মানবতাবিরোধী অপরাধ। যে দেশ তিনি চাননি কখনও, সেকানেই রাজত্ব করেছেন কুৎসিত হাসিতে। হয়েছেন সংসদ সদস্য থেকে মন্ত্রী পর্যন্ত। স্বাধীন বাংলার পতাকা গাড়িতে উড়িয়ে শহীেদের রক্তের ওপর দিয়ে ঘুরে বেরিয়েছন বীরদর্পে। তারপরও শেষ রক্ষা হল না। তিনি সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মোঃ কায়সার। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডই বহাল রইল তার।

আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর সৈয়দ মোঃ কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের পৃথক ১৬ টি অভিযোগের ঘটনার মধ্যে ১৪টিতে দোষীসাব্যস্ত করা হয়। এরমধ্যে সাতটি অভিযোগে ঘটনায় পৃথক পৃথকভাবে প্রত্যেকটিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। চারটি অভিযোগের ঘটনায় আলাদাভাবে প্রত্যেকটিতে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয়। অপর তিনটি অভিযোগে ২২ বছর কারাদ- প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রমানিত না হওয়ায় অপর দুটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি সৈয়দ মোঃ কায়সার ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে ৫৬টি যুক্তি দেখিয়ে খালাস চেয়ে আপিল আবেদন দায়ের করেন।

হবিগঞ্জের মাধবপুরের ইটাখোলা গ্রামের সৈয়দ সঈদউদ্দিন ও বেগম হামিদা বানুর ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার ওরফে মো. কায়সার ওরফে সৈয়দ কায়সার ওরফে এসএম কায়সারের জন্ম ১৯৪০ সালের ১৯ জুন।তার বাবা সৈয়দ সঈদউদ্দিন ১৯৬২ সালে সিলেট-৭ আসন থেকে কনভেনশন মুসলিম লীগের এমএলএ নির্বাচিত হন। ওই বছরই মুসলিম লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন তার ছেলে কায়সার।১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত কায়সার মুসলিম লীগ সিলেট জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন।১৯৭১ সালে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ৫০০ থেকে ৭০০ ‘স্বাধীনতাবিরোধীকে’ নিয়ে ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করেন এই মুসলিম লীগ নেতা। তিনি নিজে ছিলেন ওই বাহিনীর প্রধান।তিনি যে সে সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পথ দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রামে নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের লোক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর দমন অভিযান চালিয়েছিলেন- সে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের রায়েও উঠে আসে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করার ঠিক আগে কায়সার পালিয়ে লন্ডনে চলে যান। দেশে ফেরেন ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর।

জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭৮ সালে আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হন কায়সার। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন।

পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং হবিগঞ্জ বিএনপির সভাপতি হন। ১৯৮২ সালে তিনি বিএনপির শাহ আজিজুর রহমান অংশের যুগ্ম মহাসচিবও হন।

সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়ে কায়সার জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং হবিগঞ্জ শাখার সভাপতির দায়িত্ব পান। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে আবারও দুই দফা তিনি সংসদ সদস্য হন। ওই সময় তাকে কৃষি প্রতিমন্ত্রীরও দায়িত্ব দেন এরশাদ।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে

সান নিউজ ডেস্ক: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে একটি...

বছরে ৪৪৬ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

সান নিউজ ডেস্ক : দেশে ২০২২ সালে স্কুল ও কলেজের ৪৪৬ শিক্ষার্থ...

ছুটিতে আছেন ২৩ শতাংশ শিক্ষক!

সান নিউজ ডেস্ক: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৩ দশমিক ৫ শতাং...

বিদ্যুতের দাম সমন্বয় হবে

সান নিউজ ডেস্ক: বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নস...

ফেসবুকে স্ত্রীর নগ্ন ছবি, স্বামী আটক

সান নিউজ ডেস্ক: পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর নগ্ন ছবি সামাজি...

পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের শীতবস্ত্র বিতরণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের উদ্যো...

পটুয়াখালীতে সাংস্কৃতিক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিনা আফরিন, পটুয়াখালী: "সাংস্কৃতিক জাগরণ ও সম্প্রীতির ব...

মানুষের কথা ভাবতে চাইনি!

বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশের জনপ্রিয়...

লক্ষ্মীপুরে টার্কিশ ফুড মেলা শুরু

সান নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের লক্ষ্...

ভবন থেকে পড়ে ২ শিশুর মৃত্যু

সান নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর কামরাঙ্গীরে একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা