মতামত

করোনায় চাকরি ঝুঁকিতে নারী পোশাক শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাসের কারণে তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে জড়িত নারী শ্রমিকদের ওপর সমাজিক ভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। করোনা দুর্যোগের কারণে পোশাক খাতের বেশির ভাগ নারী শ্রমিক হওয়ায় কাজ হারানোর তালিকায় তারাই বেশি। ফলে দিনে দিনে তারা আর্থিক সমস্যার কারনে সমাজে, গৃহে ও পরিবারে তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। করোনার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক কয়েকটি দেশের ওপর এক সমীক্ষা চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।

ফলে ঘরে-বাইরে তাদের অন্যের ওপর ফের নির্ভরতায় পড়তে হচ্ছে। এর ফলে তাদের হয়রানি এমনকি সহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, লেসোথো, ভিয়েতনাম ও কেনিয়ার পোশাক শ্রমিকদের ওপর ঐ সমীক্ষা চালানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বছরের প্রথমার্ধে এশিয়ার দেশগুলোর তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে গেছে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত।

এর ফলে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা লে-অফের (সাময়িক বন্ধ ঘোষণা) পথে হাঁটতে থাকে মালিকপক্ষ। পরবর্তী সময়ে কারখানা চালু হওয়ার পরও অপেক্ষাকৃত কমসংখ্যক শ্রমিক দিয়েই কাজ করা হয়। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে গত বছর নাগাদ প্রায় সাড়ে ৬ কোটি পোশাক শ্রমিক ছিল, যা বিশ্বব্যাপী গার্মেন্টস খাতে কর্মরত শ্রমিকের ৪ ভাগের ৩ ভাগ। এসব শ্রমিকের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী শ্রমিক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে এ ধরনের নারী শ্রমিকদের প্রতি হয়রানি এবং বৈষম্য পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও খারাপ হয়েছে। মজুরি কমে গেছে, তাদের কণ্ঠস্বরও ছোট হয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে অযাচিত ভাবেই তাদের ওপর ঘরের কাজের চাপও (যা কোনো মজুরির হিসাবে নেই) বেড়েছে।

‘আইএলওর বেটার ওয়ার্ক প্রকল্প’ পরিচালিত ঐ সমীক্ষায় বলা হয়, কর্মসংস্থানের ফলে আলোচ্য দেশগুলোতে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে। ফলে ঘরেও আয়-ব্যয়ের সিদ্ধান্তে তাদের সম্মান ও প্রভাব বেড়েছিল। শুধু তাই নয়, পুরুষরাও ঘরের কাজে অংশ নিয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় এসব নারী শ্রমিকের কাজ হারানো, কিংবা আয় কমে যাওয়ায় তাদের সেই স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। তাদের ফের অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটি আইনেন বলেন, এ দেশে তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিকের ৬০ শতংশই নারী। এ খাতে নারীর কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে আসায় তাদের যে কেবল আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের জায়গা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, দক্ষ ও অনুগত শ্রমিকের ঘাটতিও বাড়তে থাকবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাতকে আগের অবস্থায় ফেরাতে কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয় আইএলওর পক্ষ থেকে। কারখানা চালুর পর কর্মচ্যুত হওয়া এসব শ্রমিকের ফেরার পথ খোলা রাখার বিষয়ে নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিকে কার্যকর উপায়ে মোকাবিলা করা, যাতে নারী ও পুরুষ শ্রমিক কর্মক্ষেত্র ও বাসায় নিরাপদ থাকতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি নারী শ্রমিক তথা নারীদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এটি মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলা কিংবা তাদের প্রতিনিধিত্ব করার জায়গাটি যাতে সচল রাখা যায়—তাতে গুরুত্ব দিয়েছে আএলও। এ লক্ষ্যে সরকার, কারখানা মালিক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানানো হয়।

সান নিউজ/এসএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

উপকূলীয় এলাকায় টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় সার্বিক...

সেপ্টেম্বরে তফসিল, ডিসেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ : সিইসি

সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির...

সেপ্টেম্বরে তফসিল, ডিসেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ : সিইসি

সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির...

উপকূলীয় এলাকায় টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় সার্বিক...

একটি পরিচ্ছন্ন নান্দনিক শহরের প্রত্যাশা!

*ইদ্রাকপুর কেল্লাকে ঘিরে ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত নগরায়ণে বদলে...

নোয়াখালী হাসপাতালের আরএমওকে নিয়ে এন্তার অভিযোগ

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসি...

মাদারীপুরে সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত 

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’—এই প্রত...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা