ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

‘লকডাউন আমাগো পেটে লাথি মারছে’

আসমাউল মুত্তাকিন, নিজস্ব প্রতিনিধি: করোনা সংক্রমণের প্রভাব ক্রমশ বেড়েই চলছে সারা বিশ্বে। একদিকে যেমন বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা, তেমনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। বিশ্বের প্রতিটি দেশের মতো বংলাদেশেও হিমশিম খাচ্ছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে।

তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে দেশব‌্যাপী চলছে ৮ দিনের ‘কঠোর লকডাউন’। এই কারণে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যানবাহন। তবে, বিশেষ প্রয়োজনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা চলাচলের অনুমতি রয়েছে।

রিকশা চালকরা বলছেন, নিম্ন আয়ের পেশাজীবীরা তাদের বাহনে চড়েন না খরচ বাঁচাতে। তারা হেঁটে হেঁটে কর্মস্থলে যান, বাসায়ও ফেরেন হেঁটে। আর মধ‌্যম ও উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা নিজস্ব পরিবহনে চলাচল করেন। তাই লকডাউনে বিপাকে পড়েছেন রিকশাচালকরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজার, মেীচাক, কমলাপুর এলাকা ঘুরে রাস্তার পাশে অপেক্ষমাণ রিকশাচালক ও যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গণপরিবহনের ভাড়া অনেক কম। এখন গণপরিবহন নেই। রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশাই শেষ ভরসা। কিন্তু এত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাওয়া আসা পোষায় না নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের।

রিকশাচালক মজনু মিয়া। বয়স প্রায় ৫৪ বছর। বাসায় মা, স্ত্রী, তিন মেয়ে ও ছোট এক ছেলে। মা ও ছোট ছেলে অসুস্থ। নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়। তাদের ওষুধ কেনা ও খাবার খরচ চালাতে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। একদিন কাজ না করলে সংসার চলে না।

মজনু মিয়া বলেন, ‘পরিবারের প্রয়োজনে রাস্তায় নামতে হয়েছে। যেসব নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত কম খরছে গণপরিবহনে চলতেন, এখন তারা বেশি ভাড়ায় রিকশায় উঠতে চান না। আর উচ্চবিত্ত তো নিজেদের গাড়ি নিয়েই চলেন। লকডাউনে গাড়ি না চললেও আমাদের রিকশাচালকদের দৈনিক আয় কমে গেছে। আগে যেখানে ৮০০-১০০০ হাজার টাকার ওপরে আয় করতাম, এখন ৫০০ টাকা আয় করাও কঠিন।’

রিকশা চালক হাফিজ মিয়া মালিবাগের মোড়ে বসে আছে দুই ঘণ্টা। একজন যাত্রীও পায়নি সে। “কি কমু স্যার। লকডাউন আমাগো পেটে লাথি মারছে। সারাদিনে রোজগার কি হইবো বুইঝা গেছি। খামু কি কন?”

তিনি বলেন, ‘লকডাউনে আপনারা ভাবেন, আমাদের অনেক ইনকাম। আসলে হিসাব তার উলটো। মানুষ খুব বেশি বের হয় না। যারা বের হয় রিকশায় ওঠে না। কার‍ণ তাদেরও আয় কমে গেছে। আগে গাড়িতে চলতো। এখন হেঁটে যায়। কেউ কেউ ওঠে। কিন্তু ভাড়া আহামরি বেশি নিতে পারি না।’

সোহেল সাহেব রিকশাচালকের সঙ্গে ভাড়া দরদাম করছিলেন। তিনি বলেন, ‘সীমিত আয়ের মানুষ আমরা। এত ভাড়া দিতে রাজকীয় চলাচল আমাদের পক্ষে তো সম্ভব না। তবু উপায় কী? অফিসে যেতে তো হবেই।’

সাননিউজ/এএসএম

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের স্টেনোটাইপিস্ট মিজানের ঘুষ বাণিজ্য

ঘুষ, অনিয়ম ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে কার্যত জিম্মি হয়ে আছে মুন্সীগঞ্জ...

সংবিধান সংস্কার আদৌ হবে কি?

নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের যে...

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানের প্রস্ততি!

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে প্রথমবারের মতো মেরিন স্থল সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তর...

ঈদের পরে বিরোধী জোটের বড় কর্মসূচি আসছে

হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত...

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানের প্রস্ততি!

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে প্রথমবারের মতো মেরিন স্থল সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তর...

ঈদের পরে বিরোধী জোটের বড় কর্মসূচি আসছে

হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত...

সংবিধান সংস্কার আদৌ হবে কি?

নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের যে...

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের স্টেনোটাইপিস্ট মিজানের ঘুষ বাণিজ্য

ঘুষ, অনিয়ম ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে কার্যত জিম্মি হয়ে আছে মুন্সীগঞ্জ...

শক্ত অবস্থানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখনো ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব অক্ষত আছে। দেশট...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা