রাজধানীতে আয়োজিত মক ভোটিংয়ে দেখা গেল ব্যাপক অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা ও সমন্বয়হীনতা। নির্বাচন কমিশনের আয়োজিত এই মহড়ায় হতাশা প্রকাশ করে现场েই ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। পরে নিজের তদারকিতে নতুন করে ভোটগ্রহণ শুরু করান তিনি।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে এই মক ভোটিং শুরু হয়। বেলা ১২টা পর্যন্ত নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৫১০ জন ভোটার এতে অংশ নেন।
ভোট শুরুর এক ঘণ্টা পর কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে বিশৃঙ্খলা, লাইনে অগোছালো অবস্থা, বুথে অরাজকতা এবং কর্মকর্তাদের অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ হন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি ভোটার ছাড়া অন্যদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং পুরুষ ও নারী কেন্দ্র থেকে ২০ জন করে ভোটার বেছে নতুন করে মক ভোটিং শুরু করান। তিনি বলেন, এভাবে হ-য-ব-র-ল হলে এই মহড়া করে কোনো লাভ নেই।
মক ভোটিংয়ে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন ভোটার জানান, সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে ভোট দেওয়া সহজ হলেও গণভোটের গোলাপি ব্যালটে লেখা বিষয়গুলো ছোট ও অস্পষ্ট হওয়ায় বুঝতে পারেননি। কেউ কেউ না বুঝেই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-তে সিল মেরেছেন। ভোটারদের মতে, গণভোট নিয়ে আরও প্রচারণা ও পরিষ্কার নির্দেশনা প্রয়োজন।
তবে প্রিজাইডিং অফিসার দাবি করেন, কেন্দ্রের ভোট ব্যবস্থাপনা মোটামুটি ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং একজন ভোটারের গড়ে প্রায় এক মিনিট সময় লেগেছে। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার জানান, প্রথম ঘণ্টায় চারটি বুথে যথাক্রমে ২৩, ৩৭, ২১ ও ২৭ জন ভোট দিয়েছেন।
পরে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। তিনি জানান, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্র বা বুথ বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি। সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এবং ভোটারকে কষ্ট দেওয়া ইসির উদ্দেশ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।
মহড়ার শুরুতেই এমন অব্যবস্থাপনা সামনে আসায় প্রস্তুতি ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণভোটের বিষয়টি নিয়ে প্রচারণা, ব্যালট ডিজাইন এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে আরও জোর দিতে হবে।
সাননিউজ/এও