ছবি-সংগৃহীত
শিক্ষা

বন্ধ হচ্ছে শিক্ষকদের রাজনীতি

সান নিউজ ডেস্ক: সরকারি কর্মচারীর মতো শিক্ষকদের জন্য একটি বিধিমালা করার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন: চালু হলো পল্লবী স্টেশন

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) ডিসি সম্মেলনের প্রথম দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে সরকারি কর্মচারীর মতো শিক্ষকদের জন্য একটি বিধিমালা করার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধেরও প্রস্তাব আসে।

এই প্রস্তাবের পক্ষে ঝিনাইদহের ডিসি মনিরা বেগম যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে পাঠদান কার্যক্রমে তাদের দায়সারা আচরণ দেখা যায়। বিধিমালা হলে শিক্ষকতার পাশাপাশি ঠিকাদারি, সাংবাদিকতাসহ একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার প্রবণতা ঠেকিয়ে শিক্ষকদের পাঠদানে আন্তরিক করা যাবে। বিধিমালা বা নীতিমালা থাকলে শিক্ষকতা পেশায় থেকে রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণে নিরুত্সাহিত করাও সম্ভব।

ডিসিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, তাদের জন্য একটি আচরণ বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব এসেছে। আমরা মনে করি, এটি একটি ভালো প্রস্তাব। এর জন্য নীতিমালা করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে বেড়েছে মৃত্যু

দেশে বর্তমানে প্রায় ৯৫ ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বেসরকারি। বর্তমানে সারা দেশে শুধু মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন ২০ হাজার ২৭৭টি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজ আছে।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক আছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬০৮ জন। বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের এখন মূল বেতনের সঙ্গে কিছু ভাতা দেওয়া হয়। উৎসব ভাতাও পান ।

তবে তারা সরাসরি রাজনীতি করার সুযোগ পান। অনেক শিক্ষক সরাসরি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। অনেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে দুটি কর্মই করে যাচ্ছেন। ফলে এই শিক্ষকেরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে থাকেন। এই সুযোগ বন্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করছেন জেলা প্রশাসকেরা।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নামে স্বতন্ত্র একটি অধিদপ্তর করার প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব কার্যক্রম মাউশির (মাধ্যমিক ও উচ্চিশিক্ষা অধিদপ্তর) মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই মাউশির কাজের চাপ বেশি থাকে। কাজের পরিমাণ বেশি হওয়ায় মাউশির সব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমস্যা হয়। পৃথক অধিদপ্তর হলে সেবা প্রদান ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করা সহজ হবে।

আরও পড়ুন: সব নাগরিকের জন্য পেনশন

এ ছাড়া পাঠ্যপুস্তকে ট্রাফিক আইন বা সড়ক পরিবহন আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা, কক্সবাজারে বিশেষায়িত মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, শিক্ষার্থী কম এমন বিদ্যালয় বিলুপ্ত করে এর পাশের বিদ্যালয়ের সঙ্গে একত্রীকরণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে পোষ্য কোটা বাতিল, স্কুল ফিডিং প্রকল্প গ্রহণসহ প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কে আলাদা আলাদা প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তারা শিক্ষাবিষয়ক একটি পূর্ণকালীন টেলিভিশনের কথা বলেছেন। এটি খুবই যৌক্তিক দাবি। তিনি বলেন, ‘তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাকে আলাদা করার কথা বলেছেন। আমার মনে হয়, অনেক বেশি ভাগ করলে সেই সমন্বয়টা বরং কমতে পারে। কাজেই বিষয়টি নিয়ে আমাদের আরো ভেবে দেখতে হবে।’

দীপু মনি জানান, হাওর অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির সময়টি ভিন্ন করার প্রস্তাব এসেছে। আমরা এটি নিয়ে আগে থেকেই কাজ করছি। একটি ফ্লেক্সিবল ক্যালেন্ডার তৈরি করা দরকার। কারণ আমাদের দেশের কয়েকটি অঞ্চলে একটি ভিন্ন সময়ে বন্যা হয়।

আরও পড়ুন: ডিএমপিতে ৫ এডিসিকে বদলি

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো প্রস্তাব এসেছে, যেগুলো এরই মধ্যে বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। যেমন কারিগরিতে বয়সের বাধা তুলে দেওয়া, নবম-দশম শ্রেণিতে কারিগরি কোর্স নিয়ে আসা। এগুলো আমাদের নতুন শিক্ষাক্রমে আছে। আমরা ৬৪০টি বিদ্যালয়ে এ দুটি কোর্স বাধ্যতামূলক করেছি।

তিনি বলেন, আর বয়সের বাধা আগেই তুলে দিয়েছি। আর কক্সবাজারে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় করা যায় কি না, প্রতি উপজেলায় একটি করে কারিগরি স্কুল ও কলেজ করার প্রস্তাবও এসেছে।

সান নিউজ/জেএইচ/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সুন্দরবনে দস্যু দমন ও নিরাপত্তায় কঠোর কোস্ট গার্ড

সুন্দরবনে দস্যু দমন, মাদক ও মানব পাচার রোধ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সার্বিক নিরা...

বোয়ালমারীতে ১২০ পরিবারের মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ

নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অধিকার, মর্যাদা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং...

সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত চার কন্যার জনক

চারদিকে নিস্তব্ধতা, ভোরের ঘুম তখনও ভাঙেনি অধিকাংশ মানুষের। হঠাৎ আগুনের লেলিহা...

বিশ্বকাপের খেলায় কেন হারায় বিটিভি?

ফিফা বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ থাকে সম্প্রচারের দিকে। বি...

ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মতবিনিময়

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন পরি...

স্ত্রীর আত্মহত্যা মামলায় আত্মসমর্পণ করলেন আলভী  

স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায়উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ...

ভারী ব্যাগে বাড়ছে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি, নষ্ট হচ্ছে  ভবিষ্যৎ! 

প্রতিদিন সকালে স্কুলের পথে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের পিঠে ঝুলতে দেখা যায় বড় বড় ব্...

বিদেশিদের জন্য সৌদির দুঃসংবাদ 

সৌদির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কিওয়া প্ল্যাটফর্ম বিদেশি কর্...

সীমান্তে পুশইন: জাতিসংঘের বার্তা 

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত পর...

ঢাকার ১২০ জায়গায় বসবে এআই ক্যামেরা

পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর ইতিবাচক ফল পাওইয়ায় ঢাকার ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেক...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা