বিশেষ সংবাদ

বিশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক

করোনা: মানুষের জীবন দুর্বিষহ হলেও সজীব হচ্ছে প্রকৃতি

বিশেষ প্রতিনিধি:

করোনাভাইরাসে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে দেশে লকডাউন। আতঙ্কে ঘরবন্দী পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-অফিস-আদালত-কল কারখানা, বন্ধ সব। নেই শিল্প প্রতিষ্ঠান কিংবা যানবাহনের কালো ধোয়া, রাস্তাঘাটে ময়লা-আবর্জনা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মানুষের জীবন এক চরম অনিশ্চয়তার কবলে পড়লেও পৃথিবী ফিরে পেতে চলেছে তার সজীবতা। অভূতপূর্ব পরিবর্তন প্রকৃতি জুড়ে। প্রায় সব ধরণের কল-কারখানা বন্ধ এবং যানবাহন চলাচল কমে আসতে থাকার সুবাদে পৃথিবীব্যাপী কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ কমে এসেছে লক্ষণীয় মাত্রায়।

প্রতিটি দেশ তার কথিত উন্নয়নের নামে একের সাথে অন্যের প্রতিযোগিতায় ধ্বংস করে চলেছে প্রকৃতির প্রাণ। নগরায়ন ও শিল্পায়নের নামে উজাড় হচ্ছে বনভূমি, উৎপাদনের নামে কল-কারখানার ধোঁয়ায় বিষাক্ত করে তোলা হচ্ছে বাতাস। ওজোন স্তর ধ্বংস করা হচ্ছে যুগের পর যুগ ধরে। আর এখন সেই মানুষের রাজ্যই চরম হুমকিতে করোনার অভিশাপে। প্রতিটি রাষ্ট্র একা হয়ে যাওয়ার সুযোগে দেশগুলোর পরিবেশে এখন ব্যাপক পরিবর্তন।

নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষক ফে লিউ জানান যে, তারা প্রথমবারের মতো গ্রিনহাউজ গ্যাস তথা বিষাক্ত গ্যাসের ক্ষেত্রে এত বড় পতন আর কখনও দেখেননি। মাঝে মধ্যে গ্রিন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ নিচের দিকে সামান্য কমে এলেও এত বড় পতন এবং এতো বেশি সময়ে স্থায়িত্বে দেয়নি এর আগে।

আধুনিক বিশ্বে পরিবেশের ক্ষতির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয় চীনকে। বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণের শতকরা ৩০ ভাগের জন্য দায়ী এই রাষ্ট্রটি। অথচ সেই চীনের বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের বিশুদ্ধ বায়ুর মাত্রা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। কারণ দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কয়লার ব্যবহারই কমেছে ৩৬ শতাংশ।

মহাকাশ সংস্থা নাসা বলছে, পূর্ব ও কেন্দ্রীয় চীনে সাধারণত যে পরিমাণ নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি দেখা যায়, তার পরিমাণ এখন ১০-৩০ শতাংশ কমে এসেছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি ক্লিন ওয়াটারের বিশ্লেষক লরি মিলিভারতার মতে, চীনে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই নিঃসরণের পরিমাণ হ্রাস পায় ২৫% হ্রাস। কার্বন নিঃসরণের এই পতন বিশ্বজুড়ে পরিবেশের জন্য ইতিবাচক এক অনন্য পরিবর্তনের আশা মিলিভারতার।

ইতালিতে একেবারেই থমকে গেছে জীবনযাত্রা। কল-কারখানা-যানবাহন সচল থাকাতো দূরের কথা ঘর থেকেই বের হওয়াটা অসম্ভব হয়ে উঠেছে দেশটির মানুষের জন্য। তাই মিলান এবং উত্তর ইতালির বেশ কিছু অংশে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ। পরিষ্কার হতে শুরু করেছে দূষিত ভেনিস।

কোপারনিকাস আবহাওয়া সার্ভিসের পরিচালক ভিনসেন্ট হেনরির কাছে বিষয়টি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তিনি জানান, বিষাক্ত গ্যাসের নিঃসরণের পরিমাণ আগে কখনোই এতোটা কম দেখা যায়নি।

গত বছরের তুলনায় নিউ ইয়র্কে বর্তমানে যানবাহনের চলাচল ৩৫% কমে গিয়েছে। যাতায়াত বন্ধ থাকায় কার্বন মনোক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ কমে এসেছে ৫০ শতাংশ। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, এরই মধ্যে এই শহরের বাতাসে কার্বন ডা্ই অক্সাইডের পরিমাণ ৫-১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অধ্যাপক রইসিন কমেনের মতে, সাধারণত মার্চ মাসে যে নিউ ইয়র্ককে দেখা যায় সে তুলনায় এই শহরকে অনেক বেশি ঝকঝকে পরিষ্কার মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে।

চীনের বায়ু দূষণের প্রভাবের শিকার হয়ে থাকে দক্ষিণ কোরিয়াও। ফলে এই মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার বায়ূও অনেক নির্মল।

পৃথিবীর সুন্দর স্থানগুলোতে পর্যটকের সমাগমও নেই এই মুহূর্তে। নেই তাদের ফেলে যাওয়া ময়লার স্তুপও। দূষণের পরিবেশ থেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা প্রাণীগুলোও তাই এখন দেখা যাচ্ছে অনেক জায়গায়।

জাপান ও থাইল্যান্ডে বানর ও হরিণ দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে। দূষণ মুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের কক্সবাজারে ভেসে উঠেছে ডলফিন। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাঁচ দিনের মাথায় প্রকৃতি ফিরে পায় তার নিজ রূপ। দেখা মিলে বিলুপ্তির পথে থাকা ১০-১২টি ডলফিনের। কক্সবাজারের স্থানীয়রা বলছেন, গত তিন দশকে এরকম দৃশ্য কারো চোখে পড়েনি।

গতকাল শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুরে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’-এর বায়ুমান সূচকে (একিউআই) ঢাকার বায়ুর মান ছিল ১১৪। চার বছর ধরে বায়ুদূষণের দিক থেকে প্রায়ই শীর্ষে থাকত ঢাকা। তবে এখন তা উঠানামা করছে ৯ থেকে ১৯-এ।

গত ছয় মাস ধরে যেখানে দিনের বেশিরভাগ সময় প্রথম স্থান দখল করে ছিল ঢাকা, সূচক উঠেছিল ৩৯১ পর্যন্ত, সেই সূচক আজ বৃহস্পতিবার দেখা গেল ১২৭।

করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কিন্তু সেই মানুষের হাতেই পরিবেশ দূষণে প্রতি বছর যে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, সেই বিষয়টি এখন নতুন সামনে আনার চেষ্টা করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

উদাহরণ হিসেবে তারা জানাচ্ছেন, প্রতি বছর চীনে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ পরিবেশ দূষণের কারণে মারা যায়।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

বরের বয়স ৭১ হওয়ায় কিশোরীর আত্মহত্যা 

মিরাজ উদ্দিন, নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ...

১৪০ কোটি টাকার জায়গা দখলমুক্ত করলো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ : মাদকের বস্তি উচ্ছেদ করে ১৪০ ক...

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও : গত ২৪ ঘণ্টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজে...

করোনায় মৃত্যু ২৩৯ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও...

হেলেনা জাহাঙ্গীর আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিট...

‘আলবুর্জ টানেল’ মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘতম সুড়ঙ্গপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘আলবুর্জ টানেল’ নামে নতুন এক...

বিদেশি ৮ নাবিক করোনায় আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাগেরহাট: মোংলা সমুদ্র বন্দরে অবস্থান নেয়া...

ক্ষত সারবে সাপের বিষে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দ্রুত ক্ষত সা...

চীনেও ছড়িয়ে পড়ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মহামারি করোনা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা