বিশেষ সংবাদ

বিশেষ সংবাদ

শিক্ষা

এক বছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাফ সেঞ্চুরি

সান নিউজ ডেস্ক: গত বছরটা খুব ভালো কাটেনি দেশের শিক্ষা অঙ্গনের। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্কুল কলেজের শিক্ষকদের টানা আন্দোলন ও অনশন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের নিয়ে বিতর্ক, বুয়েট শীক্ষার্থী আবরার ফাহাতের বিচারের দাবিসহ নানা ঘটনায় প্রায় সারা বছরই অস্থিরতা বিরাজ করেছে এ খাতে।

এরপরও সকল ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে গত এক বছরে কর্মকৌশল ও নীতি প্রণয়নসহ অর্ধশতাধিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়েরের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, গত বছরের ৭ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর ৫২ সপ্তাহে ৫২টি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করেছে মন্ত্রণালয়। এই এক বছরে মন্ত্রণালয়ের অর্জন খুঁজে দেখা গেছে, ৫২টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়েছে তারা। ইতিমধ্যে বাস্তবায়নও হয়েছে এর বড় অংশ।

এর আগে এক বছরে মন্ত্রণালয়ের অর্জন কী, তা জানাতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করে। তবে এ কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অর্জনগুলো তুলে ধরা হলো।

মন্ত্রণালয় বলছে, এগুলো তাদের গত এক বছরের অর্জন। তালিকায় ক্রমিক নম্বর দিয়ে অর্জনগুলো তুলে ধরা হয়েছ। তালিকা অনুযায়ী প্রথমেই রয়েছে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা। মন্ত্রণালয় এ অর্জনের ব্যাখ্যায় বলেছে, বিগত প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর এ বছর একসঙ্গে নীতিমালা অনুযায়ী স্বচ্ছতার সাথে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

তালিকার দ্বিতীয় থেকে দশম অর্জনগুলো মধ্যে রয়েছে :

০২. ১৯৫ দেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনে ইউনেসকোর সম্মতি আদায়।

০৩. পাবলিক, বিশেষায়িত ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ।

০৪. অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৬৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কারিগরি শিক্ষার উদ্যোগ।

০৫. ২০২১ সাল থেকে মাধ্যমিকের সব ক্লাসে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

০৬. পাঠ্যক্রম পরিমার্জনের কাজ শুরু, গ্রেডিং সিস্টেম সমন্বয় শুরু, কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে বিধিমালা।

০৭. প্রশ্নফাঁস ও গুজব প্রতিরোধ করা।

০৮. ১৩ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবনের কাজ শুরু।

০৯. শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে ২ হাজার ৪৯৪ জন জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা।

১০. বঙ্গবন্ধু এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ ও চাঁদপুরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী অন্যান্য অর্জনগুলো হলো:

১১. মাদ্রাসা বোর্ড আইন-২০১৯ মন্ত্রিসভায় পাস করা।

১২. ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষা আইন চূড়ান্ত।

১৩. খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু।

১৪. কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর বিধিমালা প্রণয়ন।

১৫. শিক্ষার মান উন্নয়নে এক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে এ বছরেই।

১৬. সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে জিপিএ-৪ প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ,

১৭. একাদশ শ্রেণির ৩০ লাখ পাঠ্যপুস্তক যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো।

১৮. হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন রোধে কমিটি করার উদ্যোগ গ্রহণ।

১৯. র‌্যাগিং প্রতিরোধে এন্টি বুলিং বিধিমালা চূড়ান্তপর্যায়ে রয়েছে।

২০. বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কর্নার’ চালু করা হয়েছে এ বছরেই।

২১. ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে একটি সফল পাইলটিং প্রজেক্ট সম্পন্ন হয়েছে। এবং ২০২০ সালে মাধ্যমিকপর্যায়ে তিনটি বিষয়ে (শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, চারু ও কারু, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা) ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর করা হবে। অন্যান্য বিষয়ে শতকরা ২০ ভাগ নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে দেয়া হবে। এ উদ্দেশ্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে দুটি ডায়রি সরবরাহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

২২. বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের দ্বিতীয় গ্রেডের তিনটি পদ সৃজন এবং তৃতীয় গ্রেডে ৯৮টি পদ আপগ্রেড করা হয়েছে। এছাড়াও ২য় ও ৩য় গ্রেডের আরও ৩৩৫ পদ সৃজন। আপগ্রেডের কাজ চলমান রয়েছে। অভিন্নপর্যায়ের প্রায় ১২ হাজার ৫০০টি পদ সৃজনের কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

২৩. দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগের জটিলতার আংশিক অবসান ঘটিয়ে ৭০২ জন চাকরি প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

২৪. সমস্ত সরকারি কলেজকে ই-ফাইলিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

২৫. সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনিটরিং করার জন্যে মাঠপর্যায়ের মনিটরিং ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এই মনিটরিংয়ের ফলে অতি দ্রুত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

২৬. সারা দেশের মাধ্যমিক স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শন চালু করা হয়েছে এতে বিনা অনুমতিতে শিক্ষকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির হার প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

২৭. সারা দেশে ২০ হাজার স্কুলে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়েছে।

২৮. উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

২৯. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের বিরাজমান সমস্যা সমূহের সমাধান করা হয়েছে।

৩০. কলেজগুলোর চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৩১. স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসার বেতনকাঠামো করার জন্য নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

৩২. স্কুল ও কলেজ শিক্ষক আত্মীকরণ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

৩৩. বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

৩৪. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অটিজম একাডেমি স্থাপনের আইনি জটিলতা দূর করা হয়েছে।

৩৫. বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা সহজিকরণ।

৩৬. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি এবং পাঠদানের অনুমতি প্রদান।

৩৭. কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ানোর উদ্যোগ।

৩৮. শিক্ষার্থীদের আমিষের ঘাটতি মেটাতে পরিপত্র জারি এবং ছয় হাজার স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে। ২০২০ সালে পর্যায়ক্রমে সব স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা হবে।

৩৯. বন্ধ থাকা শিক্ষা বৃত্তিসমূহ চালু করার উদ্যোগ।

৪০. মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান।

৪১. প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য মনিটরিং করা এবং স্কুলে ওজন ও উচ্চতা মাপার যন্ত্র ক্রয় করা হবে।

৪২. রিপ্রোডাকটিভ হেলথ ও জেন্ডার ইকুইটি বিষয়ে সব স্কুলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ।

৪৩. পারিবারিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব স্কুলে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৪৪. মাধ্যমিকপর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বয়স বিবেচনা করে পুষ্টিকর খাদ্য তালিকা সব অভিভাবকের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ।

৪৫. কো-এডুকেশন চালু আছে যে সব স্কুলে সে সব স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা ওয়াশ ব্লক তৈরি করা হয়েছে।

৪৬. শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে খেলাধুলা ও শরীর চর্চার সুযোগ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ।

৪৭. ২০১৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানো শীর্ষক একটি প্রজেক্ট সপ্তম শ্রেণির সব শিক্ষার্থী অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রজেক্টের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক প্রায় লাখ খানেক রিপোর্ট ও ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে।

৪৮. একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে ২০২০ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের সাতটি সফট স্কিলসে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৪৯. নিয়মিতভাবে প্রতি বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দিয়ে শিক্ষাঙ্গন পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

৫০. শতবর্ষী ১৩টি কলেজকে ‘সেন্টার অব এক্সেল্যান্স হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৫১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল ঘেঁষে সিগারেটের দোকান না রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এবং

৫২. নীতি শিক্ষার অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে সততা স্টোর চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব স্কুল-কলেজে সততা স্টোর চালু করা হবে। তা স্টোর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সিগঞ্জে ৯ গ্রামে আজ  উদ্‌যাপিত ঈদ

নিজস্ব প্রতিনিধি,মুন্সিগঞ্জ:মুন...

হালকা বৃষ্টি থাকবে ঈদের দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের দিন ঢাকাসহ...

টিকা নেয়া ৯৭ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের সেরাম ই...

নিজেকে সান্ত্বনা শ্রাবন্তীর

বিনোদন প্রতিবেদক: নির্বাচনের ফলের পরে এই প্রথম নিজের ছবি পোস্ট করলেন অভিনেত্র...

বিএনপি নেতাকর্মীদের ঈদ নেই একযুগ : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি নেতাকর্...

জেমির সহকারী ওয়াটকিস এখন ঢাকায়

স্পোর্টস ডেস্ক : ১০ মে রাতে ঢাকায় আসেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল...

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দূরপাল্লার বাস চলছে 

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভাবগাম্ভীর্যের...

অক্সিজেনের অভাবে ৭৫ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের গোয়া ম...

ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে হামাসের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনির গা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা