বিশেষ সংবাদ

বিশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক
চ্যালেঞ্জের মুখে ব্রিটেন

অবশেষে আজ কার্যকর হচ্ছে ব্রেক্সিট

সান নিউজ ডেস্ক:

তিন বছর ধরে নানা চড়াই-উৎরাইয়ের পর অবশেষে আজ শুক্রবার রাতেই কার্যকর হচ্ছে বহুল আলোচিত-বিতর্কিত ব্রেক্সিট। দীর্ঘ চার দশকের বন্ধন ছেড়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট ইইউ (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) থেকে বেরিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য।
তবে আগামী এগার মাস পরিবর্তনকালীণ সময় বা ‘ট্রানজিশনাল পিরিয়ড’ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য ইইউ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে এবং ইইউকে অর্থ প্রদান করবে।

ব্রেক্সিট বিল অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি স্থানীয় সময় রাত ১১টায় ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ কার্যকর হবে।

যুক্তরাজ্যের জন্য এটি হয় নতুন ভোর নিয়ে আসবে, নয়তো জুয়ার মতো অনিশ্চয়তায় ফেলবে। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লষকেরা।

এগারো মাসের মধ্যে বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয়ে ইইউ’র সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে ঘোর সংশয় দেখা দিয়েছে। বিষয়টিকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইইউ’র প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে সম্প্রতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইইউ কোনো অবস্থায় একক বাজারের অখণ্ডতা নিয়ে আপোস করবে না। তার মতে, ব্রিটেন এতকাল ব্রেক্সিটের ব্যয়ভারকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। এবার সেই বাস্তবের মুখোমুখি হওয়ার সময় এসে গেছে। একক বাজার ও শুল্ক এলাকা ত্যাগ করলে তার পরিণাম ভোগ করতে হবে।

ব্রিটেনের কিছু রাজনীতিক সম্প্রতি ব্রাসেলসের কাছ থেকে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নানারকম ছাড়ের আশা প্রকাশ করেছেন। তবে বার্নিয়ে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন।

ব্রিটেনের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে ইইউ যতটা সম্ভব নমনীয় হওয়ার চেষ্টা করলেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আর আগের মতো অবাধ হতে পারবে না।

ব্রেক্সিট কী?
ইউরোপ মহাদেশের অধিকাংশ দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার বিষয়টিই ‘ব্রেক্সিট’ নামে পরিচিত। ব্রিটেনের ব্রি ও এক্সিট (প্রস্থান) মিলে ব্রেক্সিট শব্দটি গঠিত। অতীতে ইউরো মুদ্রা থেকে গ্রিকের বেরিয়ে আসাকেও বলা হয়েছিল গ্রেক্সিট। ২০১৬ সালের দিকে ব্রেক্সিট শব্দটি অক্সফোর্ড অভিধানে স্থান পায়।

থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ ইনফ্লুয়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা পেটার উইল্ডিং ২০১২ সালের মে মাসে ব্রেক্সিট শব্দটি লিখেছেন। তার আট মাস আগে তখনকার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ঘোষণা করেন, ইউরোপ থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ ঘটবে কিনা, তা নিয়ে তিনি গণভোটের আয়োজন করবেন।

কেন ইউরোপ ছাড়ছে ব্রিটেন?
অনেক ব্রিটিশ নাগরিক নিজ দেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিনিষেধ মেনে চলা নিয়ে বেশ নাখোশ। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে ব্রিটিশদের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। ইইউর নিয়মানুযায়ী, ইউনিয়নের ২৮ দেশ ভিসা ছাড়াই এক দেশ থেকে আরেক দেশে চলাচল করতে পারে। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তার সরকারের প্রথম মেয়াদে ইইউর বাইরের দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু ইউরোপীয় নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতে পারেননি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদে ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করতে চার বছরের জন্য সুবিধা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন। এতে ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধানের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তারা সদস্য দেশের নাগরিকদের সুবিধা ভাতা দেয়ায় বৈষম্য হলে তা ইইউর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে দাবি তোলেন। আর এ কারণেই যুক্তরাজ্যকে ইইউতে রাখা না রাখার ব্যাপারে প্রশ্ন তৈরি হয়।

ব্রেক্সিট প্রশ্নে ইইউভুক্ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে অভিবাসীদের সুবিধা সীমিত করাসহ চারটি সংস্কার প্রস্তাব দেন ক্যামেরন এবং পরবর্তী সময় সে প্রস্তাব নিয়ে ক্যামেরনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেন ইইউ নেতারা।

দেশে ফিরে ব্রেক্সিটের বিষয়ে ২০১৬ সালের ২৩ জুন দেয়া গণভোটে ব্রিটেনের ইইউতে থাকা না থাকার প্রশ্নে দেশটির জনগণই চূড়ান্ত রায় দেন।

যাতে ৫১.৯ শতাংশ লোক ব্রেক্সিটের পক্ষে ও ৪৮.১ শতাংশ বিপক্ষে ভোট দেন। তিন কোটিরও বেশি লোক এতে ভোট দেন।

এই বিচ্ছেদের কারণে যেসব পরিবর্তন আসবে:

১. ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যপদ হারাবেন যুক্তরাজ্যের এমপিরা:

নাইজেল ফারাজ এবং অ্যান উইড্ডেকমবের মতো পরিচিত মুখগুলোসহ যুক্তরাজ্য থেকে ৭৩ জন সদস্য ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে। ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার ফলে তারা তাদের সদস্যপদ হারাবেন।
কারণ যুক্তরাজ্য একই সাথে ইইউ'র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও এজেন্সিগুলোও ছেড়ে যাচ্ছে। তবে যেহেতু যুক্তরাজ্য অন্তর্বর্তী সময়ে ইইউ'র আইন কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে সেহেতু ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস আইনি সমস্যাগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেয়া অব্যাহত রাখবে।

২. ইইউ সামিটে আর নয়:
ভবিষ্যতে যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিল সামিটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অংশ নিতে চান তাহলে তার জন্য দরকার হবে বিশেষ আমন্ত্রণ।
ব্রিটিশ মন্ত্রীরাও এখন থেকে আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মিত বৈঠকগুলোতে অংশ নিতে পারবেন না।

৩. বাণিজ্য বিষয়ে অনেক কিছু শোনা যাবে:
যুক্তরাজ্য তাদের পণ্য ও সেবা বিক্রি বা এসব কেনার জন্য নতুন নিয়ম ঠিক করতে বিশ্বের যে কোনো দেশের সাথে আলোচনা শুরু করতে পারবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য থাকার সময়ে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনা করতে পারতো না। এখন ব্রেক্সিট সমর্থকরা বলছেন নিজের বাণিজ্য নীতি ঠিক করার স্বাধীনতা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

৪. যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টের রং পরিবর্তন হবে:
নীল রংয়ের পাসপোর্ট আবার ফিরে আসবে ত্রিশ বছর পর। ২০১৭ সালে এ পরিবর্তনের কথা ঘোষণা দিয়ে তখন অভিবাসনমন্ত্রী ব্রান্ডন লুইস দেশটির ঐতিহ্যবাহী নীল ও সোনালী ডিজাইনের পাসপোর্ট আবার ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন। এ পাসপোর্ট প্রথম ব্যবহার শুরু হয়েছিলো ১৯২১ সালে। তবে বর্তমান যে পাসপোর্ট আছে সেটিও বৈধ থাকবে।

৫. ব্রেক্সিট কয়েন:
প্রায় ত্রিশ লাখ বিশেষ কয়েন আসবে যেখানে ৩১শে জানুয়ারি এবং লেখা থাকবে 'পিস, প্রসপারিটি অ্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ উইথ অল নেশনস'। কিন্তু এ কয়েনকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে তারা এ কয়েন বর্জন করবে। তবে সরকার একই ধরণের আরেকটি কয়েন আনার পরিকল্পনা করছে যেখানে উল্লেখ থাকবে ৩১শে অক্টোবর, যে তারিখে প্রকৃতপক্ষে ব্রেক্সিট কার্যকরের কথা ছিলো।

৬. বন্ধ হবে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট ডিপার্টমেন্ট:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যুক্তরাজ্যের যে বিভাগ আলোচনা চালিয়েছিলো সেই বিভাগটি বন্ধ হয়ে যাবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে'র সময়ে ওই বিভাগটি চালু করা হয়েছিলো ২০১৬ সালে। সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যের নেগোসিয়েশন টিম হবে ডাউনিং স্ট্রীট অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ভিত্তিক।

৭. জার্মানি কাউকে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ করবে না:
সন্দেহভাজন অপরাধী যদি কেউ যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে গিয়ে জার্মানিতে আশ্রয় নেয় তাহলে তাকে ফেরত পাবে না যুক্তরাজ্য। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের নাগরিককে প্রত্যর্পণের সুযোগ নেই, জার্মান সংবিধান অনুযায়ী। যুক্তরাজ্যের হোম অফিস বলছে ইউরোপিয়ান অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট বা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে অন্তর্বর্তী সময় পর্যন্ত।

আর যেসব বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আসবেনা:

১. ভ্রমণ:
অন্তর্বর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ভ্রমণের সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের লাইনেই দাড়াতে পারবেন।

২. ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পেট পাসপোর্ট:
এগুলোর বৈধতা অব্যাহত থাকবে।

৩. ইউরোপিয়ান স্বাস্থ্য বীমা স্কার্ড:
এ কার্ড দিয়েই যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় চিকিৎসার ক্ষেত্রে।

৪. ইউরোপীয় ইউনিয়নে বসবাস ও কাজ:
অন্তর্বর্তী সময়ে চলাচলের স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে। তাই যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ইইউভুক্ত দেশে বসবাস ও কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। ইইউভুক্ত অন্য দেশের নাগরিকরাও একই সুবিধা পাবে যুক্তরাজ্যে।

৫. পেনশন:
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অন্য দেশে বসবাসরত যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা রাষ্ট্রের পেনশন সুবিধা পাবেন।

৬.বাজেটে অবদান
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেটে অন্তর্বর্তী সময়েও অবদান রেখে যাবে যুক্তরাজ্য।

৭. বাণিজ্য:
যুক্তরাজ্যের সাথে ইইউ'র বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে নতুন কোন চার্জ আরোপ ছাড়াই।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শাহবাগ থানায় নেওয়া হলো সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে

নিজস্ব প্রতিনিধি: টানা পাঁচ ঘণ্টা সচিবালয়ে আটকের পর স্বাস্থ্...

কানাডায় প্রিমিয়াম সুইটসের মনিরুজ্জামানসহ নিহত ৩ বাংলাদেশি

সান নিউজ ডেস্ক : কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়...

নাশতার সঙ্গে ভাসছেন বর্ষা

বিনোদন ডেস্ক: নিজের ফেসবুক পেজে ভ...

সাংবাদিককে নোবেলের হুমকি, থানায় জিডি

বিনোদন ডেস্ক : দেশের একটি বেসকারি...

একদিনে ৬৩ পুলিশ সুপার বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক: একদিনে সারা দেশ...

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস আজ 

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক : একটি জাতির...

শাহবাগ থানায় নেওয়া হলো সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে

নিজস্ব প্রতিনিধি: টানা পাঁচ ঘণ্টা সচিবালয়ে আটকের পর স্বাস্থ্...

নোবেলের হুমকি, নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিক কাছির 

নিজস্ব প্রতিবেদক : আলোচিত ও সমালো...

ভিন্নরকম আইসোলেশনে যুবক!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান করোনা পর...

‘গোমূত্র পান করি, তাই করোনা হয়নি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতীয় জনতা পা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা