মে মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ুর আনাগোনা শুরু হওয়ায় আকাশে মেঘের দেখা মিলে থাকে। তবে যখন মেঘ সরে যায়, তখন বায়ুমণ্ডল একদম পরিষ্কার থাকে, ফলে সহজেই আকাশে গ্রহ ও নক্ষত্রের মেলা বেশ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে।
মে মাসের ২০ তারিখের পর থেকে বৃহস্পতি ও শনি ভোরের আকাশে বেশ উঁচুতে অবস্থান করবে। বিশেষ করে ৩০ ও ৩১ মে ভোরে পূর্ব-দক্ষিণ দিগন্তে এ দুই দৈত্যাকার গ্রহকে বেশ উজ্জ্বল দেখাবে। আপনি যদি টেলিস্কোপ ব্যবহার করেন, তবে শনির বলয় ও বৃহস্পতির গ্যালিলিয়ান উপগ্রহগুলো দেখার এটাই সেরা সময়। এ ছাড়া মঙ্গল গ্রহের লালচে আভার মনোমুগ্ধকর দৃশ্যও দেখা যাবে ভোরের আকাশে।
২৩ মে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে বছরের অন্যতম উজ্জ্বল পূর্ণিমা। জ্যৈষ্ঠের এ পূর্ণিমার আলোয় গ্রামবাংলার প্রকৃতি এক অপূর্ব রূপ ধারণ করবে। তবে আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য সময়টি কিছুটা চ্যালেঞ্জের, কারণ চাঁদের তীব্র আলোয় ক্ষীণ নক্ষত্র বা গ্যালাক্সি দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। ৩১ মে ভোরের আকাশে এক অনন্য দৃশ্য দেখা যাবে। সরু ফালির চাঁদ ও উজ্জ্বল বৃহস্পতি গ্রহ একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থান করবে। সূর্যোদয়ের ঠিক আগে পূর্ব দিগন্তে খালি চোখেই দেখা যাবে এ দৃশ্য।
মে মাসের শেষ দিকে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশের নক্ষত্রের বিন্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে। সন্ধ্যার আকাশে লিও নক্ষত্রপুঞ্জ কিছুটা পশ্চিম দিকে হেলে পড়বে এবং এটির প্রধান নক্ষত্র রেগুলাসকে সূর্যাস্তের পর দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে দেখা যাবে। অন্যদিকে, মে মাসের শেষ সপ্তাহে রাত ১০টার পর থেকে পূর্ব আকাশে দেখা মিলবে বিখ্যাত সামার ট্রায়াঙ্গেলের। তিনটি ভিন্ন নক্ষত্রপুঞ্জের তিনটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ভেগা, ডেনেব ও আলটায়ারের সমন্বয়ে তৈরি হওয়া বিশাল এই ত্রিভুজ মূলত উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের আগমনের বার্তা দিয়ে থাকে। এ সময় উত্তর-পূর্বে আকাশে উজ্জ্বল কমলা রঙের আর্কটারাস নক্ষত্রও দেখা যাবে।
সাননিউজ/আরএ