ছবি : সংগৃহিত
লাইফস্টাইল

নিয়মিত হাঁটার উপকারিতা

লাইফ স্টাইল ডেস্ক : রোজ খানিকটা হাঁটাহাঁটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। নিয়মিত হাঁটলে অনেক সুফল পাওয়া যায়। দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম না হওয়ার কারনে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে নানান অসুখ।

আরও পড়ুন : এক টুনা মাছের দাম তিন কোটি!

হাঁটার সময় হৃৎস্পন্দন আর শ্বাস–প্রশ্বাসের গতি বাড়ে। ফলে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে রক্ত সরবরাহ বাড়ে। যাঁরা নিয়মিত হাঁটেন, তাঁদের অস্টিওপোরোসিস (হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ) কম হয়। হাড়ের জোড়া বা গিঁট সুস্থ থাকে।

ওজন ঠিক রাখতেও হাঁটার গুরুত্ব আমাদের সবার জানা। দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে চাইলে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য হাঁটার উপকারিতা বলে শেষ করার মতো নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন হাঁটলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। ডিনাইস অস্টিনের মতে, হাঁটার উপকারিতা অসাধারণ। এটি ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। সেইসঙ্গে বৃদ্ধি করে হজমশক্তি। এটি হাড় এবং পেশীকেও শক্তিশালী করে। নিয়মিত হাঁটলে তা স্ট্রেস দূর করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন : রাতে মোজা পরে ঘুমানো কতটা স্বাস্থ্যকর?

চলুন জেনে নেওয়া যাক হাঁটার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা :

মন ভালো রাখে :

ডাঃ জামলিসের মতে, এক গ্লাস ওয়াইন বা তিনটি ডার্ক চকলেট মন খারাপের দিনে যেভাবে কাজ করে ঠিক একইভাবে কাজ করে হাঁটার অভ্যাসও। তফাৎ শুধু এটি আপনার কোনো ক্যালোরি বৃদ্ধি করে না। চাইলে সবুজ প্রকৃতির মধ্যেও হাঁটাহাঁটি করতে পারেন।

গবেষণা জানা গেছে, প্রতিদিন হাঁটলে তা স্নায়ু প্রক্রিয়া ঠিক রাখে। যা আপনার রাগ এবং আক্রমণাত্মক আচরণকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। শীতকালে রোদে হাঁটা মনের জন্য আরো ভালো যা আপনাকে বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি দেবে। সর্বোপরি হাঁটতে বের হলে আপনি আশেপাশের মানুষের সাথেও দেখা, সাক্ষাৎ ও গল্প করতে পারেন, যা মনের জন্য অনেক ভালো।

আরও পড়ুন : হাঁসের মাংস ভুনা

দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায় :

হাঁটলে শরীরের পেশিতে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে। ফলে রক্তের গ্লুকোজ কমে। ডায়াবেটিস এবং স্তন ক্যানসারসহ অন্য অনেক ক্যানসারের ঝুঁকি কমে

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন-এর মতে, রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সামগ্রিক ঝুঁকি কমাতে হাঁটা অত্যন্ত উপকারী। কিছু গবেষণা বলছে, প্রতি ১,০০০ স্টেপ হেঁটে আপনার সিস্টোলিক .৪৫ পয়েন্ট রক্তচাপ কমিয়ে আনা সম্ভব। দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হাঁটেন না তাদের তুলনায় যারা পর্যাপ্ত হাঁটা-চলা করেন তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩০% কম। তাই রোগ প্রতিরোধের জন্য হাঁটা ভালো।

ক্যালোরি ঝরায় ও ওজন কমায় :

গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস চর্বি কমাতে সাহায্য করে। ফলে, ইনসুলিনের সঙ্গে সঙ্গে শরীর সমন্বয়ও ভালো থাকে। নিউইয়র্কের একজন প্রশিক্ষক এরিয়েল আইসেভোলি বলেন, ‘প্রতিদিন হাঁটলে অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ানোর মাধ্যমে পেশীর ক্ষতি রোধ হয় এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, যা আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’ হাঁটার সবথেকে ভালো দিক হলো, এর জন্য আলাদা করে কিছু করতে হয় না। চাইলে শুরু করতে পারেন অফিস, স্কুল, কলেজে হেঁটে যাওয়ার মাধ্যমে।

আরও পড়ুন : বাড়লো বিয়ে-তালাক নিবন্ধন ফি

মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধি করে :

এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে তিনবার এক ঘণ্টা দ্রুত হাঁটেন তাদের মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যারা শিক্ষা সেমিনারে অংশ নেয় তাদের তুলনায় ভালো। অন্যান্য গবেষণা দেখায় যে শারীরিক ব্যায়াম, যেমন হাঁটা, বয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, নিয়মিত হাঁটার ফলে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে এই সুবিধাগুলো পাওয়া যায়। তাই যখন হাঁটা-চলা করবেন, তখন আপনার মস্তিষ্কও ভালোভাবে কাজ করতে শুরু করবে।

জীবনীশক্তি বাড়ায় :

হাঁটা-চলা আপনার জীবনীশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। কারণ এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতি সপ্তাহে মাত্র ১০ থেকে ৫৯ মিনিট হাঁটাহাঁটি করেন, অলস ব্যক্তিদের তুলনায় তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ১৮% কম। এর মাধ্যমে হার্টও ভালো থাকে।

কখন এবং কীভাবে হাঁটবেন :

সকালে না, বিকেলে হাঁটলে ভালো। কতখানি হাঁটবেন তা আপনার চিকিৎসক আপনার শরীর বা রোগের পরিধি বুঝে পরিমাণ নির্ধারণ করে দেবেন। তবে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটতে হবে।

বাসায় কিংবা অফিসে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেন।

হাঁটা শুরু করার প্রথম দিকে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে হাত–পা নেড়ে ওয়ার্মআপ করে নিন ৫ মিনিট।

প্রথমে ধীরে হাঁটা শুরু করুন। তারপর গতি বাড়ান। শেষ ৫ মিনিট আবার গতি ধীর করুন। একে বলে কুলডাউন। তারপর কোনো এক জায়গায় বসে খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে ফিরে আসুন।

সান নিউজ/জেএইচ/এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৫৩৪১০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

চলতি বছর হজ করতে বাংলাদেশ থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) দি...

পটুয়াখালীর বিভিন্ন রুটে বাড়ছে যাতায়াত ব্যয়

সারাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী স্পিডবোটের যা...

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক গৃহা...

একনেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্র...

ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরির উদ্যোগে হামে...

সিভিল এভিয়েশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ব...

বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইমে পারফর্ম করবেন ম্যাডোনা, শাকিরা ও বিটিএস

ফুটবল আর সংগীত এক জগৎ না। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপ এল...

ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ: বাবা ও বোনের পর চলে গেল ছোট্ট মুন্না

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় বাসায় গ্যাসের লাইনের...

রেললাইনে হেঁটে গেম খেলছিল দুই কিশোর, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু

গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুই কি...

দীপু মনি, বাবু ও রুপাকে কারাগারে পাঠালেন ট্রাইব্যুনাল

দীর্ঘ ১৩ বছর আগে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা