ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড হঠাৎ স্থগিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা মিছিল বের করে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং পরে সেখানে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) কর্মসূচি শেষে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের ঘটনায় বিভাগের সভাপতি ও বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। এতে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা প্রার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই তা স্থগিত করা হয়েছে, অথচ তারা দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রস্তুতির কোনো মূল্য দেওয়া হয়নি বলেও তারা জানান। প্রার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বত্র দলীয় প্রভাব কাজ করছে এবং বিভাগের সভাপতি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত বলে তারা শুনেছেন।
এদিকে শিক্ষার্থীরা বলেন, অনেক বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় তীব্র সেশনজট তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও একটি পক্ষ এতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে। তাদের দাবি, দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার্থীদের স্বার্থ উপেক্ষা করা হচ্ছে। তারা প্রশ্ন তোলেন যে, কার প্ররোচনায় আজ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হলো এবং জাতীয় নির্বাচনের আগেই সব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, তাকে সরাসরি কেউ চাপ দেয়নি, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য ইউট্যাব থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, যিনি আজ নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হননি, তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
সান নিউজ/আরএ