সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করেছে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ। দাবি না মানলে সর্বাত্মক আন্দোলন করা হবে সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সমাবেশ থেকে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ এ হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে, সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে সহকারী শিক্ষকরা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন।
শিক্ষকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে ১শ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ ও ১০ বছর ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড প্রদানে উন্নীত স্কেলকে উচ্চতর গ্রেড হিসেবে বিবেচনা করার জটিলতা নিরসন।
শিক্ষকরা বলেন, হাইকোর্ট থেকে প্রধান শিক্ষকদের ২০১৪ সাল থেকে ১০ম গ্রেডে বেতন প্রদানের রায় দিয়েছেন। যা দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হলে ১৬ বছর পর দুটি টাইমস্কেল পেয়ে একজন প্রধান শিক্ষকের বেতনস্কেল দাঁড়াবে ২৩ হাজার টাকা।
অপরদিকে একজন সহকারী শিক্ষকের ১৩তম গ্রেডে তাদের বেতনস্কেল ১১ হাজার টাকা শুরু হয়ে ১৬ বছর পর দুটি টাইমস্কেল পাওয়ার পর দাঁড়াবে ১২ হাজার পাঁচশ টাকায়। তাতে ১৬ বছর চাকরি করার পর একজন প্রধান শিক্ষকের সাথে একজন সহকারী শিক্ষকের বেতনের বৈষম্য হবে আনুমানিক প্রায় ২৫ হাজার টাকা।
তারা বলেন, ফলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মেধাবীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতিসহ ১১তম গ্রেডে দ্রুত বেতন নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছি।
প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত বিভিন্ন কমিশন হয়েছে। কিন্তু আমরা শিক্ষানীতি পাইনি। আমরা ভেবেছিলাম, অভ্যুত্থানের পর শিক্ষকদের আর রাজপথে নামতে হবে না। অথচ প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যন্ত, সব শিক্ষকরা অবহেলিত। তাদের যে বেতন দেওয়া হয়, এত কম যে বলতে আমাদের লজ্জা হয়। মাত্র ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা।