রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামিপক্ষকে কোনো আইনি সেবা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য যদি আসামিপক্ষকে আইনি সহায়তা দেন, তবে তার বিরুদ্ধে কার্যনির্বাহী কমিটি ও জ্যেষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৯টার দিকে জুম মিটিংয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
কালাম খান বলেন, ‘কার্যনির্বাহী কমিটির জুম মিটিং শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে সমিতির কোনো সদস্য অংশ নেবেন না। কার্যনির্বাহী কমিটির ২৩ সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এ ধরনের অপরাধীদের একটা বার্তা দিতে চাই যে এরূপ ন্যক্কারজনক অপরাধ করলে তাদের আইনি সহায়তাও মিলবে না। কোনো আইনজীবী তাদের পক্ষে দাঁড়াবেন না। তাদের শাস্তি অনিবার্য।’
শনিবার (২৩ মে) সকালে সব দপ্তরে ও বিচারকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান কালাম খান। ঢাকা আইনজীবী সমিতি এ ধরনের নৃশংসতার বিচার চায় বলেও জানান তিনি।
আইনজীবী সমিতির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইয়াসিন আরাফাত। ফেসবুকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, এই সিদ্ধান্ত আইনত অবৈধ, অযৌক্তিক ও নীতিবহির্ভূত। এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও লেখেন, প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজের পছন্দমতো আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের মৌলিক অধিকার রয়েছে। কোনো বার অ্যাসোসিয়েশন তার সদস্যদের পেশা পরিচালনার অধিকার খর্ব করতে পারে না।
গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলায় একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন দল ও সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে। শুক্রবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সাননিউজ/আরএ