দেশে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৩৮ জন। চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮০ শিশু, আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪০১ জনের। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এ সংখ্যা গত আড়াই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে প্রায় ৫৮ হাজার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন হাজারের বেশি শিশুকে ভর্তি করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে গাফিলতি, অপুষ্টি, ঘনবসতি ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা মিলেই এই সংকটকে ভয়াবহ করে তুলেছে।
এরই মধ্যে ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারকে সম্ভাব্য টিকা-সংকট নিয়ে অন্তত পাঁচবার চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কারণে সময়মতো টিকা দেশে পৌঁছায়নি। তবে সরকার তদন্ত উদ্যোগ নেওয়ায় সেটিকে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ইউনিসেফ মনে করিয়ে দিয়েছে, টিকার পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত না করলে এমন সংকট আবারও দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে এই প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে। সন্তানকে বাঁচাতে গ্রাম থেকে ঢাকায় ছুটে আসা অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেও সিট না পাওয়া, ওষুধ ও পরীক্ষার খরচ, কর্মহীন হয়ে পড়াÑ সব মিলিয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর জীবন হয়ে উঠেছে চরম দুর্বিষহ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থের অভাবে দেরিতে হাসপাতালে আসায় অনেক শিশুর অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ছে। তাই শুধু চিকিৎসা নয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা ও কার্যকর টিকাদান ব্যবস্থাও এখন সময়ের দাবি। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে তিনজন। বুধবার (২০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ও শনাক্তের তথ্য দেওয়া হয়।
এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৫৯ জন ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন; আর ৭৮ জন মারা গেছে রাজশাহী বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট, এ বিভাগে মারা গেছে ৩৯ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৩৭, বরিশালে ২৯, ময়মনসিংহ ৩৪, খুলনা ২১ ও রংপুরে বিভাগে ৪ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ২৭০টি শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক হাজার ১৪৫ জনকে ভর্তি করতে হয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৫৫ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। আর সবচেয়ে কম ১৩ জন ভর্তি হয়েছে রংপুরে। এ নিয়ে দেশে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৮৫৬। তাদের মধ্যে আট হাজার ৬৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকার ব্যাপারে সতর্ক করে পাঁচটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল-ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স: ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকা-সংকটের কথা বলে সতর্ক করেছিল। তারা ১০টি মিটিংয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে একই কথা জানিয়েছিল। ইউনিসেফ মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় দেশে সময়মতো টিকা আসেনি।
বুধবার দুপুরে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, ভালো খরব হচ্ছে, এক কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে। হাম নিয়ন্ত্রণে। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংবাদ সম্মেলনে টিকা-সংকটের কারণ, টিকা-সংকট কাটিয়ে উঠতে ইউনিসেফ কী করেছে, এই সংকট আর যেন না হয়, সে বিষয়ে কথা বলেন রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বারবার বলেন, হামে শিশুমৃত্যু দুঃখজনক।
টিকার সংকট ও হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান রানা ফ্লাওয়ার্স। ইউনিসেফ তদন্তে সহায়তা করবে কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, ‘ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে।’
সাংবাদিকদের রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, সরকার চাইলে উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা ক্রয় করতে পারে। মনে রাখতে হবে, টিকার মজুত নিশ্চিত থাকা জরুরি। উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করতে এক বছরের মতো সময় লেগে যায়। ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা যায়।
দেশে চলতি বছর হামে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর বেশির ভাগই শিশু। ইতোমধ্যে মারাত্মক এই ভাইরাসে ৪৭৫ জন মারা গেছে। বাংলাদেশে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি। গত আড়াই দশকে কখনো দেশে হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে হামের সর্বাধিক রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে, ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এর পর থেকে রোগী কমে আসে। ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরের (২০২০ থেকে ২০২৪) রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে দুই হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭। এ সময়ে মৃত্যুর ঘটনা ছিলই না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকাদানে গাফিলতি এবার হামের এই মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, হাম নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ।
হামের আঘাতে ঋণের বোঝা, বিপর্যস্ত দরিদ্র পরিবার: আট মাস বয়সী মেয়ে তাবাসসুমকে কোলে নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হাসপাতালের ওয়ার্ডে বুধবার বসে ছিলেন রুবিনা আক্তার। দীর্ঘ এক সপ্তাহের অনিশ্চয়তা, জ্বর, কান্না আর হাসপাতাল বদলের পর অবশেষে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন- এই স্বস্তি তার চোখেমুখে স্পষ্ট। কিন্তু সেই স্বস্তির আড়ালেই জমে আছে আরেক ভয়- চিকিৎসার খরচ মেটাতে নেওয়া ঋণের চাপ।
মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। কিন্তু এখন ৩০ হাজার টাকার ধার কীভাবে শোধ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না, বলেন রুবিনা। পাবনার বাসিন্দা রুবিনার স্বামী পেশায় কাঠমিস্ত্রি। ছোট মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় আসার পর তিনি বাড়িতে থেকে অন্য দুই সন্তানকে দেখাশোনা করছেন। ফলে কয়েকদিন ধরে কোনো আয় নেই। সাত বছর ও সাড়ে তিন বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে মেয়ের চিকিৎসার জন্য একাই ঢাকায় ছুটে এসেছিলেন রুবিনা। তিনি জানান, প্রায় এক মাস ধরেই মেয়ের জ্বর আসা-যাওয়া করছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরলেও পরদিনই শিশুটির ১০৪ ডিগ্রি জ¦র আসে এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে। স্থানীয় চিকিৎসক এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে জ্ঞান ফেরে, কিন্তু জ্বর কমছিল না। তখনই ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে পারেননি। মাত্র ৮৫০ টাকা হাতে নিয়ে বাসে করে অসুস্থ শিশুকে কোলে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা দেন। স্বামী বলেছিলেন, তুমি আগে রওনা দাও, পরে টাকা পাঠাচ্ছি।
রুবিনা বলেন, বাসের মধ্যে বাচ্চা খুব কাঁদছিল। শরীর এত গরম ছিল যে কোলে ধরে রাখতেও ভয় লাগছিল।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় পৌঁছে ছোটভাইকে সঙ্গে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে থাকেন। প্রথমে শিশু হাসপাতালে যান, সিট না থাকায় ভর্তি নেয়নি। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, তারপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল- কোথাও জায়গা হয়নি। রাত তখন প্রায় ১২টা।
হাসপাতালের গেট থেকে বেরিয়ে শুধু কাঁদছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না কোথায় যাব, বলেন রুবিনা।
ঠিক তখনই এক সিএনজিচালক তাদের মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রাত ১টার দিকে সেখানে মেয়েকে ভর্তি করানো হয়। শুরু হয় চিকিৎসা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
চিকিৎসকরা শিশুটির শরীর অত্যন্ত দুর্বল উল্লেখ করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু রুবিনার কণ্ঠে অসহায়তা, আমরা তো স্বাভাবিক খাবারই ঠিকমতো খেতে পারি না, ভালো খাবার কোথা থেকে কিনব?
হাসপাতালে থাকার এই এক সপ্তাহে ওষুধ, পরীক্ষা, খাবার ও যাতায়াত মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এর বেশির ভাগই ধার। রুবিনার মা, যিনি বাসাবাড়িতে কাজ করেন, তিনিও হাসপাতালে এসে মেয়ের পাশে ছিলেন কয়েকদিন। শুধু রুবিনা নন, হামের প্রাদুর্ভাবে একই ধরনের সংকটে পড়েছেন আরও অনেক নিম্ন আয়ের পরিবার। নীলফামারীর ডিমলা থেকে আসা রেজাউল ও রাবেয়া দম্পতির সাত মাস বয়সী মেয়ে রিফাও এখন ডিএনসিসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জীবিকার তাগিদে তারা মিরপুরে ভাড়া বাসায় থাকেন। বাবা রিকশা চালান, মা গার্মেন্টে কাজ করেন। দিনের বেলা বাবা সন্তানদের দেখেন, রাতে মা বাসায় ফিরলে রিকশা নিয়ে বের হন তিনি।
মে মাসের ২ তারিখে হঠাৎ শিশুটির জ্বর ও কাশি শুরু হয়। প্রথমে মিরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শরীরে র্যাশ, মুখে ঘা এবং তীব্র জ্বর দেখা দেয়। শিশুটি খাওয়া বন্ধ করে দেয়।
১০ মে শ্যামলীর শিশু হাসপাতালে নেওয়া হলেও সিট না থাকায় ভর্তি নেয়নি। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়। কিন্তু পরদিন কাশির সঙ্গে রক্ত আসতে শুরু করলে পরিবারটি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল হয়ে শেষ পর্যন্ত ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাবেয়া বলেন, ছোট বাচ্চার হাতে-পায়ে এতবার সিরিঞ্জ ঢুকিয়েছে যে পুরো হাত ফুলে গেছে। পরে আইসিইউতে নিয়ে ক্যানোলা দিতে হয়েছে। ১৬ মে রাতে শিশুটির অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরদিন কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো ওয়ার্ডে ফেরানো হয়নি।
এই ১৫ দিনে চিকিৎসা ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু দুজনেরই কাজ বন্ধ। মানুষের কাছ থেকে ধার করে চিকিৎসা চালাচ্ছি। সামনে আরও কত খরচ হবে, জানি না, বলেন রেজাউল। ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে আসা হয়েছে তাদের আট বছর বয়সী বড় মেয়েকে। অন্যদিকে রাবেয়া দুশ্চিন্তায় আছেন গার্মেন্টে চাকরি থাকবে কিনা তা নিয়ে।
একদিকে মেয়ে আইসিইউতে, অন্যদিকে ঋণের চাপ। মাথা কাজ করে না, বলেন তিনি। গত কয়েক দিনে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ডিএনসিসি হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে জটিলতা সামাল দেওয়া না গেলে পরিবারগুলোকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। আর এই যাত্রাই অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য নতুন আর্থিক বিপর্যয় তৈরি করছে। অনেক পরিবার জানায়, হামের আগেই অন্য রোগে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এরপর হাম ধরা পড়লে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ঢাকায় থাকা-খাওয়ার খরচ মেটাতে ধারদেনা করতে হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক পরিবার জানায়, ছোট সন্তান নিউমোনিয়া ও হাম থেকে সেরে ওঠার কিছুদিন পর বড় সন্তানের শরীরেও হাম দেখা দেয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকায় আনা হয়। পরিবারটির ভাষ্য, শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় আসতেই ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আগের সন্তানের চিকিৎসায় ৪০ হাজার টাকা গেছে। এখন আবার নতুন করে খরচ শুরু।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি আঘাত করছে দরিদ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে। কারণ, সেখানে টিকাদানের হার কম, অপুষ্টি বেশি এবং সচেতনতারও ঘাটতি রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, অপুষ্টি ও ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফলে নিম্ন আয়ের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পরিবার দেরিতে হাসপাতালে আসে। তখন রোগ জটিল হয়ে যায়, চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যায়।
যখন তারা বাধ্য হয়ে হাসপাতালে আসে, তখন অনেক ক্ষেত্রে শিশুর জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, বলেন তিনি।
তার মতে, শুধু চিকিৎসা দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যাতে অর্থের অভাবে কোনো শিশুর চিকিৎসা থেমে না যায়।
সাননিউজ/আরএ