বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিল প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পর পুরো দেশজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে ৩০ জুনকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, জার্মানির বিপক্ষে জাতীয় ফুটবল দলের অবিস্মরণীয় জয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এই বিশেষ সরকারি ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ফুটবল দলের অসাধারণ সাফল্যের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মানও প্রকাশ পেয়েছে।
আন্ডারডগ হয়েও দেখাল দুর্দান্ত লড়াই
ম্যাচের আগে শক্তির বিচারে জার্মানিই ছিল স্পষ্ট ফেবারিট। তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতীতের সাফল্য থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল প্যারাগুয়ে। সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায় পুরো ম্যাচজুড়ে।
নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় শেষ হয় লড়াই। পরে ভাগ্য নির্ধারণী টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেয় ইউরোপের পরাশক্তিদের।
গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের বীরত্বেই বদলে যায় ম্যাচ
টাইব্রেকারে জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। জার্মানির প্রথম শট নিতে আসা কাই হাভার্টজের পেনাল্টি দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি। এরপর প্যারাগুয়ে নিজেদের প্রথম তিনটি শট সফলভাবে জালে পাঠিয়ে এগিয়ে যায়।
পরিস্থিতি আরও অনুকূলে আসে যখন জার্মানির নিক ভল্টেমাডের শটও রুখে দেন গিল। এরপর শেষ দুই শটের যেকোনো একটিতে গোল করলেই জয় নিশ্চিত করার সুযোগ পায় প্যারাগুয়ে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইতিহাস গড়ে দলটি।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া গিলের
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অরল্যান্ডো গিল বলেন,
"এই জয় প্রমাণ করে, কাউকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি প্যারাগুয়ে বড় মঞ্চেও অসাধারণ কিছু করতে পারে। এই মুহূর্তের জন্য আমরা অনেক দিন অপেক্ষা করেছি।"
তিনি আরও বলেন,
"ম্যাচটা যেন এক ভয়ঙ্কর সিনেমার মতো ছিল। জার্মান খেলোয়াড়রা চারদিক থেকেই আক্রমণ করছিল। এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে আমরা জিতেছি।"
নয়্যারের প্রশংসাও করলেন গিল
প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের ভূয়সী প্রশংসা করেন গিল। তার মতে, বিশ্বমানের একজন গোলরক্ষকের বিপক্ষে একই টাইব্রেকারে খেলতে পারাটা ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা।
গিল বলেন,
"নয়্যার একজন অসাধারণ গোলরক্ষক। তিনিও একটি পেনাল্টি ঠেকিয়েছেন। তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এখন আমরা শান্তভাবে এই অর্জনের মূল্যায়ন করব। ১২০ মিনিট লড়াই করে টিকে ছিলাম, আর টাইব্রেকারে ভাগ্যও আমাদের সহায় ছিল।"
পরিসংখ্যানে এগিয়ে থেকেও বিদায় জার্মানি
ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য ছিল জার্মানির। তারা গোলমুখে মোট ২১টি শট নেয়, যেখানে প্যারাগুয়ের শট ছিল মাত্র ৭টি। তবে পরিসংখ্যান নয়, শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করেছে দৃঢ় মনোবল, রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা এবং টাইব্রেকারে অরল্যান্ডো গিলের অসাধারণ পারফরম্যান্স।
এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে শুধু বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বেই নয়, ফুটবল ইতিহাসেও নিজেদের জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় লিখে রাখল প্যারাগুয়ে।