বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই এক ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ। সামান্য ভুলেই শেষ হয়ে যেতে পারে শিরোপার স্বপ্ন। সেই কঠিন পরীক্ষায় এবার মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপান।
সোমবার হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
ফর্মে থাকা ব্রাজিল
গ্রুপপর্বে দারুণ ছন্দে ছিল ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তারা শেষ করেছে গ্রুপপর্ব। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যিনি এখন দলের আক্রমণের প্রধান ভরসা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচে ব্রাজিল পাঁচ জয়, এক ড্র ও মাত্র এক হারের রেকর্ড গড়েছে। সর্বশেষ ছয় ম্যাচে টানা অপরাজিত আছে সেলেসাওরা।
গ্রুপপর্বে সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে নকআউটে উঠেছে তারা।
আত্মবিশ্বাসী জাপান
অন্যদিকে জাপানও কম যায় না। সুইডেনের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে গ্রুপপর্ব শেষ করেছে তারা। দলের হয়ে গোল করেন দাইজেন মায়েদা।
এই ড্রয়ের মাধ্যমে টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রেখেছে ‘সামুরাই ব্লু’রা। পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয় জাপান।
শেষ দেখায় জয়ী জাপান, এবার পাল্টা লড়াই ব্রাজিলের
দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল গত অক্টোবরে টোকিওতে, যেখানে ৩-২ গোলে জিতেছিল জাপান। সেই ম্যাচে তাকুমি মিনামিনো, কেইতো নাকামুরা ও আয়াসে উয়েদা গোল করেন।
ব্রাজিলের হয়ে গোল করেছিলেন পাওলো হেনরিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি।
ফলে এবার ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য শুধু কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, বরং প্রতিশোধের সুযোগও।
তারকাদের লড়াই
ব্রাজিলের আক্রমণের মূল ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যিনি এখন পর্যন্ত চার গোল করে টুর্নামেন্টের অন্যতম শীর্ষ গোলদাতা।
জাপানের দলে দাইচি কামাদা ও আয়াসে উয়েদা দুজনেই সমানভাবে দুইটি করে গোল করেছেন। পাশাপাশি মিনামিনো ও নাকামুরাও আক্রমণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
পরিসংখ্যান বলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ব্রাজিল ও জাপান—দুই দলই এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছে, যা তাদের আক্রমণভাগের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে।
সর্বশেষ ছয় ম্যাচে ব্রাজিল ১৮ গোল করেছে, হজম করেছে ৫টি। এর মধ্যে ১০ গোল এসেছে প্রথমার্ধে।
অন্যদিকে জাপান এই সময়ে ১০ গোল করে মাত্র ৩টি হজম করেছে। পাঁচ ম্যাচেই তারা প্রথম গোল করেছে এবং প্রতিপক্ষকে প্রথমার্ধে গোল করতে দেয়নি।
সব মিলিয়ে হিউস্টনের এই লড়াই শুধু একটি ম্যাচ নয়—এটি হতে পারে প্রতিশোধ, ইতিহাস আর স্বপ্নের নতুন অধ্যায়।