মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি সাবেক সমাজকল্যাণ, শিক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি (৬৪) অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিডনি, থাইরয়েড ও অ্যালার্জিজনিত জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৬টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন। পরে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতাল ও কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ডা. দীপু মনি দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি, থাইরয়েড ও অ্যালার্জিজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। এর জন্য তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হতো। রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কারাগারের অভ্যন্তরে তিনি হঠাৎ তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দীপু মনির আগে থেকেই কিডনি, থাইরয়েড ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ জানান, রাতে অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসকদের পরামর্শ ও বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কঠোর নিরাপত্তায় সকালে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গতঃ ডা. দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ৭০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩৮টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।