ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিষাক্ত সাপের কামড়ে রাফসান মোল্যা (১৬) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে দুই ওঝার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করান। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত রাফসান উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের অমৃতনগর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী লিটন মোল্যার ছেলে। তিনি বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবা প্রবাসে থাকায় রাফসান ও তার পরিবার একই গ্রামের মামা আল আমিন মোল্যার বাড়িতে বসবাস করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাথরুমে যান রাফসান। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে একটি বিষাক্ত সাপ দংশন করে। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে পার্শ্ববর্তী ঘোষপুর ইউনিয়নের গোয়াইলবাড়ি এলাকার আক্কাচ মিনা নামে এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে ঝাড়ফুঁক করেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে পৌরসভার সোতাশী গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে বুলু ওঝার কাছে নেওয়া হয়। সেখানেও ঝাড়ফুঁক শেষে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
রবিবার (২৮ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে রাফসানের বুকে চাপ অনুভূত হওয়া ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে সেখানে নেওয়ার পথেই ভোরে তার মৃত্যু হয়।
গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. এনায়েত হোসেন বলেন, "প্রায় ১৫ দিন আগেও রাফসানকে একটি সাপ দংশন করেছিল। তখন একই ওঝার ঝাড়ফুঁকের পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে। এবারও পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ওঝার শরণাপন্ন হন। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।"
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কে এম মাহমুদ রহমান বলেন, "রাত ৪টার দিকে রাফসানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুমন রায় সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় এন্টিভেনম প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে বলেন। তবে তারা এন্টিভেনম দিতে সম্মতি না দেওয়ায় তাদের লিখিত সম্মতির ভিত্তিতে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।"