ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কামারহাটি গ্রামে অবস্থিত শতবর্ষী পারিবারিক দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে কালী ও শিব প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২১ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। তবে কখন এ ঘটনা ঘটেছে তা বলতে পারেন নাই মন্দির-সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয়রা।
পরে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ঘটনার সাথে জড়িত বলে শনাক্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
মন্দিরের দেখাশোনা করেন প্রবীণ গৃহকর্ত্রী অঞ্জলি রানী রায় জানান, রবিবার সকালে কে বা কাহারা মন্দিরে প্রবেশ করে মহাদেব, শিব ও কালী প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে। প্রতিমার মাথাসহ হাত-পায়ের ক্ষতি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “রবিবার বেলা ১১টার দিকে আমার নাতি সঞ্জয় রায়ের ছেলে সূর্য রায় মন্দিরে গিয়ে প্রতিমা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পায়। পরে বিষয়টি সবাইকে জানানো হয়। এটি আমাদের পারিবারিক মন্দির। আমার স্বামী মৃত লক্ষ্মণ রায়ের পূর্বপুরুষরা মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এত বছর ধরে মন্দিরে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি।”
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান এবং সদ্য যোগদানকারী বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এস এম রকিবুল হাসান জানান, "খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয়দের সাথে কথা বলি। পরে আশপাশের সড়কে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে গ্রাম পুলিশ সাতৈর বাজার থেকে মন্দির থেকে চুরি হওয়া নারকেলসহ তাকে আটক করে।"
এ বিষয়ে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি মন্দিরে প্রবেশ করে দুটি ডাব ও শিবের প্রতিমার মাথা ভেঙে নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে সাতৈর বণিক সমিতির কাছে হস্তান্তর করে।