ন্যাটো জোটের প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষা করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাশিয়া কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, চলতি শরৎকাল থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে যেকোনো সময় পূর্ব ইউরোপে সীমিত স্থল অনুপ্রবেশ, সাইবার হামলা কিংবা অন্য কোনো উপায়ে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে মস্কো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছিল, ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত থাকা অবস্থায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অন্য কোনো দেশে হামলার ঝুঁকি নেবেন না। তবে নতুন মূল্যায়নে সেই অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ও মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাতে জানা যায়, পোল্যান্ডের মাটিতে সশস্ত্র উসকানি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা কিংবা ইউক্রেনের ওপর দায় চাপাতে ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ হামলার মতো পরিকল্পনার বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে।
গোয়েন্দাদের ধারণা, ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা এবং ইউক্রেনকে সমর্থন থেকে দূরে রাখতে এসব কৌশল নিতে পারে রাশিয়া।
এদিকে, পোল্যান্ডে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়া এবং জার্মানির লাইপজিগ/হ্যালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাওয়ার ঘটনার পর ইউরোপে রুশ উসকানির আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস অভিযোগ করেছেন, ইউরোপকে বিভক্ত করা এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন দুর্বল করতে মস্কো ‘সাজানো’ হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের খবর কেবল ‘হিমশৈলের চূড়া’। তিনি রুশ যুদ্ধজাহাজের ইংলিশ চ্যানেলে লাইভ ফায়ার মহড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুতে রাশিয়া নিয়ে তাদের মূল্যায়নে পরিবর্তন আসে। ইউক্রেন যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন কৌশল নিতে পারেন বলে মনে করছেন তারা।
সম্ভাব্য হুমকির মধ্যে রয়েছে সাইবার হামলা, পরিচয়হীন গোষ্ঠীর মাধ্যমে নাশকতা এবং ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে সীমিত সামরিক অনুপ্রবেশ। তবে সরাসরি স্থল হামলার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও সময়ের সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে রাশিয়ার সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ন্যাটোর মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন ও’ডোনেল জানিয়েছেন, জোট প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ন্যাটো সবসময় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, জার্মানির লাইপজিগ/হ্যালে বিমানবন্দরে ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের পাশে বিস্ফোরকসহ ড্রোন পাওয়ার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরটি জার্মান সামরিক বাহিনী ও ন্যাটো মিত্রদের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ন্যাটোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের লক্ষ্য হতে পারে জোটের ঐক্যে ফাটল তৈরি করা এবং ইউক্রেনকে দেওয়া সহায়তা কমাতে সদস্য দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সান নিউজ/ হুমায়রা