রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে মধ্যরাতে রেললাইন অবরোধ ও রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ঘটনায় চার রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেল।
জানা যায়, রোববার রাত ১১টার পর রাজশাহী রেলস্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন যাত্রীরা। এ সময় রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী স্টেশন ঘেরাও করেন।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ লাঠিসোটা নিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে অনেক যাত্রী হুড়োহুড়ি করে স্টেশন থেকে বেরিয়ে যান।
এক যাত্রী বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো ট্রেনের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে সমস্যাটির দ্রুত কোনো সমাধান হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় রাত ৯টার দিকে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় রেল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আয়ুব আলীকে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন।
রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির অভিযোগ করে বলেন, রেললাইনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও টিটিইদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ আগেও উঠেছে।
এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় স্টেশনে ভাঙচুর চালানো হয়। বিভিন্ন পক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলেও বেশ কিছু সময় উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রেলস্টেশন রাষ্ট্রীয় সম্পদ। সেখানে ভাঙচুর ও তছনছ কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের দাবির অংশ হতে পারে না।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা স্টেশন ছেড়ে ক্যাম্পাসের দিকে ফিরে যেতে শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্টেশনে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেলস্টেশনে আটকে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুলিশি সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলকর্মীদের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনার পর চার রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
সান নিউজ/ রাব্বি