সারাদেশ

নীলফামারীতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা

আমিরুল হক, নীলফামারী: করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যাওয়া ও নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে এই বিধিনিষেধ আরোপ করলেও নীলফামারীতে কোথাও মানা হচ্ছিল না স্বাস্থ্যবিধি। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের কোনো তৎপরতাও দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতে করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সচেতন নাগরিকদের।

জানা যায়, করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন প্রতিরোধে শুরু হয়েছে ১১ দফার বিধিনিষেধ। বিধিনিষেধে বলা হয়েছে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে মাস্ক পরতে হবে, সভা-সমাবেশ বন্ধ থাকবে। কেউ না মানলে তাঁকে জেল-জরিমানার মুখে পড়তে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।

সরেজমিন গতকাল ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বাসস্ট্যান্ড, চৌরঙ্গীমোড়, কাঁচাবাজার এলাকা, অফিসপাড়া, কলেজ সড়কসহ সব জায়গাতেই দিনের অধিকাংশ সময় মানুষের ভিড়। ছিল না সামাজিক দূরত্ব। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসে পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থী, এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীদের মুখেও নেই মাস্ক। নির্দেশনায় থাকলেও নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা। মাপা হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা।

এদিকে, উত্তরবঙ্গের মিলন কেন্দ্র সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, বাসে যাত্রী ওঠানামার সময় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। অনেকের মুখে মাস্ক না থাকলেও হেলপার তাঁকে সাদরে উঠতে দিচ্ছেন। টিকিট কাউন্টারে আসা যাত্রীরাও মাস্ক ছাড়া। যে দু’জন টিকিট বিক্রি করছেন, তাঁদের মুখে মাস্ক থাকলেও একজনের রয়েছে থুতনির নিচে। বাসে অনেককে দেখা যায় মাস্ক ব্যবহারে অনীহা। বলতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে বাগবিতন্ডার কথা জানালেন পরিবহনের কর্মচারি।

সৈয়দপুর শহরের রিকশা চালক কামাল উদ্দিন বলেন, আমরা পরিশ্রম করি, তাই আমাদের করোনা হবে না। সরকার বলেছে মাস্ক পরতে, তাই সঙ্গে রেখেছি। আমরা দিন আনি দিন খাই। পেটের দায়ে ঘর থেকে বের হতে হয়। বিধিনিষেধ মানার চেষ্টা করলেও আইনের প্রয়োগ না থাকায় ভুলে যাই। এ ছাড়া শিক্ষিত যাত্রীরাও মাস্ক পরেন না বলে জানান তিনি।

পৌরবাজারে সবজি কিনতে আসেন যমুনা শো রুমের ব্যবস্থাপক আতিক আলম। তিনি বলেন, বিধিনিষেধ তো দুই বছর ধরে দেখছি, শুনছি। করোনা এই কমে তো এই বাড়ে। করোনা কবে যাবে তার ঠিক নাই। নিজে নিরাপদ থাকতে চাই। তবু হয় না, অনেক সময় অজান্তেই মাস্ক পরা হয় না।

নীলফামারী সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর কবির জানান, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। যাঁরা টিকা নিয়েছেন, আর যারা এখনো নেননি, প্রত্যেকের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। সর্বত্রে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নির্দেশনার একটি বিধি। কিন্তু অনেকেই তা মানছেন না।

সান নিউজ/এমকেএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে...

৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

আজ ২৬ মার্চ। ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসের সর্বশ্রে...

১৭ সচিব রদবদল

সরকার ১২ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ ৫ সচিবকে জনপ্রশাসন মন্ত্র...

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মহান...

পারস্য উপসাগর অবরুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে কোনো ধরনের হামলা চা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা