দেশের সীমান্ত এলাকাজুড়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত মে মাসে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মোট ৪৯০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চল থেকে প্রায় ১৭৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বুধবার (১০ জুন) বিজিবির জনসংযোগ শাখা থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে চোরাচালান, মাদক পাচার ও অবৈধ যাতায়াত রোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিদেশিসহ শতাধিক ব্যক্তি আটক
বিজিবির তথ্য বলছে, মে মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে যাতায়াতের অভিযোগে ৯২ জন বাংলাদেশি নাগরিক, ৬ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৩৯২ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
১৭৭ কোটি টাকার বেশি চোরাচালান পণ্য জব্দ
বাহিনীটির দাবি, সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার ফলে চোরাচালান প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। অভিযানে জব্দ হওয়া পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ১৭৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণ, রুপা, তৈরি পোশাক, কসমেটিকস, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, খাদ্যপণ্য, যানবাহনসহ নানা ধরনের অবৈধ পণ্য।
বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার
মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে ক্রিস্টাল মেথ (আইস), কোকেন, হেরোইন, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ এবং বিপুল পরিমাণ গাঁজা।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তপথে মাদক পাচার ঠেকাতে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার
চোরাচালান ও মাদকের পাশাপাশি অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি পিস্তল, একটি রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন, ২৫৮ রাউন্ড গুলি, একটি রকেট লঞ্চার এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম।
সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদারের ইঙ্গিত
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমার ও ভারত সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রোধে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।