মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। মস্কো মনে করছে, যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে সংঘাতের বিস্তার পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বুধবার (১০ জুন) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের জেরে যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে রাশিয়া অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
তিনি উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলমান সংঘাত বন্ধে অবিলম্বে সামরিক অভিযান স্থগিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে মধ্য এশিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রতি দুই দেশের অবস্থানে দীর্ঘদিন ধরেই মিল দেখা যায়। এ কারণে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ককে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীনও। বেইজিং বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সংযম না দেখায়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, সব পক্ষের উচিত শান্ত থাকা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা। তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে, হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জবাবে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে বুধবার ভোরে ইরানের সামরিক সদর দপ্তর খাতামুল-আম্বিয়া জানায়, মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তাই বিশ্বশক্তিগুলো এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংঘাত নিরসনে আলোচনার পথেই জোর দিচ্ছে।