দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। একাধিক শহরে বিমান হামলা ও রাতভর গোলাবর্ষণের ঘটনায় সীমান্ত এলাকাজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কালাউইয়া, আল-কাত্রানি, বাইব্লোস, রিহান এবং দেইর কিফা এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি বারাশিত ও চাকরা অঞ্চলেও ভারী গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলার কারণে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহজুড়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর প্রায় ১৫০টি স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব স্থাপনার মধ্যে অস্ত্র মজুত কেন্দ্র, কমান্ড পোস্ট, রকেট উৎক্ষেপণ এলাকা এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে তাদের দাবি।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা সদস্যদের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী একটি আর্টিলারি ঘাঁটি লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আইডিএফের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, শনিবার রাতে হিজবুল্লাহ পরিচালিত একটি ড্রোন দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থানের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে সীমান্ত অঞ্চলে বড় ধরনের মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।