আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও মূল্যপতনের ধারা দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ এবং হরমুজ প্রণালিতে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কমে আসার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৫৪ ডলারে নেমে আসে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা আপাতত কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ফলে জ্বালানি বাজারে মূল্য সংশোধনের প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামও কমেছে। এদিন ব্রেন্ট তেল ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯৪ ডলার কমে ৯৩ দশমিক ০৯ ডলারে লেনদেন হয়, যা আগের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশের বেশি নিম্নমুখী।
শুধু ব্রেন্ট বা ডব্লিউটিআই নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক তেলের দামেও পতন লক্ষ্য করা গেছে। মুরবান ক্রুডের মূল্য ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউটিআই মিডল্যান্ড, মার্স ক্রুড এবং ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্টের দামও নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।
জ্বালানি তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস এবং হিটিং অয়েলের বাজারেও মূল্যহ্রাস দেখা গেছে। তবে ডিজেলের দামে সামান্য বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলের যেকোনো রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলে তেলের বাজারে আরও মূল্য সমন্বয় দেখা যেতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো সংবেদনশীল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।