নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দুর্ঘটনা, হামলা কিংবা আকস্মিক অসুস্থতার শিকার হলে তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণ করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন অনুদান দেওয়া হবে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন এই নীতিমালা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তের হামলা বা দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার পরিবার সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবে। একই কারণে স্থায়ী অক্ষমতা বা গুরুতর আহত হলে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা, সাময়িক অক্ষমতা বা গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা এবং সাধারণ আঘাতের ঘটনায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে।
এছাড়া দায়িত্ব পালনের সময় আকস্মিক অসুস্থতা বা স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারকে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থতা বা স্থায়ী অক্ষমতার জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা, ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা এবং সাধারণ চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা মিলবে।
নতুন নীতিমালায় উত্তরাধিকারীদের অনুদান পাওয়ার বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সরকারি বিধান অনুযায়ী অনুদানের অর্থ বণ্টন করা হবে। একাধিক স্ত্রী থাকলে সমান হারে অর্থ ভাগ হবে এবং আবেদন যৌথভাবে করতে হবে। তবে পুনর্বিবাহ করলে স্বামী বা স্ত্রী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
স্বামী বা স্ত্রী না থাকলে ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলে, অবিবাহিত মেয়ে কিংবা প্রয়োজনে বাবা-মা অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে ভাই-বোন বা বিবাহিত মেয়েরাও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
আর্থিক সহায়তা পেতে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঘটনার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বা দপ্তর প্রধানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, উত্তরাধিকার সনদ, চিকিৎসা সনদ ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি সংযুক্ত করতে হবে।
আবেদন যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে এবং নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর অনুদানের অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতি অর্থবছরে নিজস্ব বাজেট থেকে এই কল্যাণমূলক তহবিলের অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে, যাতে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার দ্রুত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।