মতামত

আমেরিকা মানেই গণতন্ত্র নয়!

কাউসার মুমিন : আমেরিকা মানেই গণতন্ত্র নয়, গণতন্ত্রে ফেরার পার্পেচ্যুয়াল প্রচেষ্টার নামই আমেরিকা এতো লোকের এতো ইচ্ছা পূর্ণ হলো, কিন্তু, ট্রাম্পের একটি ইচ্ছাও পূর্ণ হলো না...আর এখানেই মার্কিন গণতন্ত্রের শক্তিমত্তার পরিচিয় অথচ, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিলেন, যে সকল রাজ্যে জিতলে ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হতে পারতেন-সে রাজ্যগুলোর গভর্ণর, রাজ্য সভা, কোনো কোনো রাজ্যে পুরো রাজ্য পার্লামেন্ট রিপাবলিকান দলীয় ছিল...ট্রাম্পের কোনো কাজে আসতে পারেনি কেউ।

ট্রাম্প মামলা নিয়ে কোর্টে গিয়েছিলেন, তার বেশীর ভাগ ইলেকশন কেইস যে সকল বিচারপতির সামনে ছিল, তাদেরকে ট্রাম্প নিজেই নিয়োগ দিয়েছিলেন-কিন্তু, ট্রাম্পের কোনো লাভ হয়নি। ট্রাম্প জর্জিয়া স্টেটের গভর্নরকে অনুরোধ করেছিলেন, যেভাবেই হোক মাত্র ১১ হাজার ভোট সংগ্রহ করে দিতে -কিন্তু, নিজ দলীয় গভর্নর তা করতে অস্বীকার করেন,-ট্রাম্প কোনো অন্যায় সুবিধা পাননি। ট্রাম্প তাঁর অন্ধভক্তদের উস্কানি দিয়ে ক্যাপিটল হিল আক্রমণ, ভাঙচুর করলেন। যাবতীয় অপরাধের সাথে সম্ভাব্য জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে-এবং সকলকে দ্রুত সময়ে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে-এর ফলে ২০ তারিখের অভিষেকে কেউ মিছিল বের করতেও (আক্রমণতো দূরের কথা) রাস্তায় নামেনি ....

হামলায় উস্কানী দেওয়ার জন্য ট্রাম্প ইতিমধ্যেই দ্রুততম সময়ে হাউজে ইমপিচড হয়েছেন, শিঘ্রীই সিনেটেও ইমপিচের সম্ভাবনা বেশী-এরপর সিনেট ট্রাম্পের রাজনীতি বন্ধের জন্য বা তাঁর অপরাধের শাস্তির জন্য আবার ট্রাম্পের ট্রায়ালের ক্ষমতা রাখে-ওই ট্রায়ালের বিল সিনেটে পাশ হলে ট্রাম্প আর আগামীতে নির্বাচন করতে পারবেন না এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হবেন।

তাই ট্রাম্প জামানা কে কেন্দ্র করে যারা আমেরিকার গণতান্ত্রিক শক্তি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন/করেছিলেন তাদের সকলের মুখে চুনকালি দিয়ে মার্কিন গনতন্র দেখিয়ে দিয়েছে সে কতটা শক্তিশালী। কারণ মার্কিন গণতন্ত্র এরকম অনেক ট্রাম্পের ব্যর্থতার ইতিহাস পাড়ি দিয়ে নিজে উন্নত শির দাঁড়িয়ে আছে বিগত ২৩১ বছর।

যারা আমেরিকার রেসিজম নিয়ে কথা বলেন তারা জানেন না যে, আমেরিকায় রেসিজম কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে তৈরী করেননি, তিনি শুধু তা উস্কে দিয়েছেন। তারা এ-ও জানেন না যে, চাঁদের কলংকের মতো রেসিজম হচ্ছে আমেরিকার একটি জন্মদাগ-কারণ দাসপ্রথা বিলুপ্তির কালে তৎকালীন মার্কিন নেতাদের নিকট মানবিক স্বাধীনতার বিষয়টি এতোবেশী গুরুত্ব পেয়েছিল যে, স্বাধীন দাসদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দেওয়ার প্রশ্নটি মাথায় আসেনি কারো। ফলে লক্ষ লক্ষ কৃষ্ণাঙ্গকে যখন দাস থেকে স্বাধীনতা দেওয়া হয় তখন তারা সকলেই ছিলেন কপর্দকশূন্য-কারণ তাদেরকে শুধু মুক্তি দেওয়া হয়েছিল-কোনো সম্পদ বা অর্থকড়ি কিছুই দেওয়া হয়নি। তাই জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা সংস্কৃতিতে অনেকদূর এগিয়ে থাকা শ্বেতাঙ্গ মানুষদের সাথে সেইদিন থেকে মার্কিন কৃষাঙ্গ সমাজ শূন্য হাতেই সমান তালে চলার সংগ্রাম করে যাচ্ছে-তাই তারা এই সমাজে এখনো পিছিয়ে আছে.

হ্যা, এই মার্কিন সমাজ এখনো অনেক অসম, ঐশ্বর্য্য আর দারিদ্রের সমাহারে ভরপুর। আর এর সমাধান করতে পারে একমাত্র একটি কার্যকর গণতন্ত্র। গণতন্রের অধিকতর বাস্তবায়নই অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জাতিভেদ ধীরে ধীরে হ্রাস করতে পারে এই সমাজে-যেমনটি দাসপ্রথা লোপ থেকে এই পর্যন্ত ঘটেছে। কিন্তু, এই পার্থক্য পূর্ণাঙ্গভাবে মার্কিন সমাজ থেকে কখনো দূর হবে না- কারণ এই দেশের কালো আর সাদাদের মধ্যে সমানাধিকারের যে দৌঁড় চলছে-ওই দৌঁড়ের শুরুতেই কৃষাঙ্গরা শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে ১০০ বছর পিছিয়ে ছিল. বিগত প্রায় একশো বছরে গণতন্রের সুযোগে কৃষাঙ্গরা এগিয়েছে-কিন্তু এখনো সমান হয়নি -এই জন্য সময় লাগবে, কার্যকর গণতন্ত্র লাগবে।

তাই সকলকে বুঝতে হবে, আমেরিকা মানেই গণতন্ত্র নয়; গণতন্ত্রে ফেরার পার্পেচ্যুয়াল প্রচেষ্টার নামই আমেরিকা।

সূত্র: আমেরিকা প্রবাসী লেখক কাউসার মুমিনের ফেসবুক থেকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ফুলবাড়ী উপজেলায় মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

ফুলবাড়ী উপজেলায় মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০ট...

দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে বাড়ছেই ভোগান্তি

পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলের কোনো লক্ষণ এখন...

ইরান-মার্কিন উত্তেজনা চরমে

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রণতরী ইউএসএস আ...

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে: সোনারগাঁও জনসভায় তারেক

দেশের উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি ও কর্মসংস্থান খাতে আমূল প...

ইবি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী কল্যাণ সমিতির দায়িত্বে শহিদুল-আহনাফ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থী কল্য...

৩০ জানুয়ারি নোয়াখালী আসছেন জামায়াতে আমীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী আসছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসল...

ভোটের সততা নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না : নোয়াখালীতে ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছ...

জাতীয়তাবাদের নামে ঋণ খেলাপি ও বিদেশি নাগরিকদের লাল কার্ড দেখানো হবে : আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, এবার জ...

দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে বাড়ছেই ভোগান্তি

পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলের কোনো লক্ষণ এখন...

দিস ইজ দ্যা রিয়েলিটি অফ টাইম : ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এখানে পাল্লা হচ্ছে ১১...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা