জাতীয়

লাপাত্তা হলেও শেষ রক্ষা হবেনা আকবরের

এনামুল কবীর, সিলেট : শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে পারেননি সিলেটের বহুল আলোচিত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত ইনচার্জ আকবর হোসেন ভুঁইয়া। রায়হান আহমদকে ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর তার মৃত্যুর ঘটনাকে গণপিটুনিতে ছিনতাইকারীর মৃত্যু বলে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে ছিলেন তারা।

তবে তা আর সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, কাষ্টঘর সুইপার কলোনির যে ঘর থেকে তাকে ধরে নেয়া হয়েছিল সেই ঘরের মালিক, জেলা পুলিশ সুপার অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডাক্তারের বক্তব্য- সব মিলিয়ে যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তাতে সচেতন মহল মনে করছেন, লাপাত্তা হলেও রক্ষা নেই বরখাস্তকৃত এই এসআই’র।

ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরে মোট ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুসারে এসবের মধ্যে ৯৭টি লীলাফোল আঘাত ও ১৪টি জখমের চিহ্ন। সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্র তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছে। ফরেনসিক এই রিপোর্টটি পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদকে ১১ অক্টোবর রাতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির টহল দল ধরে নিয়েছিল কাস্টঘর সুইপার কলোনির চোলাই লালের ঘর থেকে। তিনি ও তার ছেলে গণমাধ্যম কর্মীদের (১৫ অক্টোবর) জানিয়েছেন, রায়হানকে যখন তার ঘর থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, তখন তিনি দিব্যি সুস্থ-স্বাভাবিক ছিলেন। তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই’র জিজ্ঞাসাবাদেও তারা একই কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন।

চতুর আকবর ফাঁড়ির সিসিটিভির হার্ডডিস্ক সরিয়ে ফেলায় সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি। তবে ফাঁড়ির পাশের জেলা পুলিশ সুপার অফিসের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে যে, রায়হান স্বাভাবিক অবস্থায় হেঁটে প্রবেশ করছেন ফাঁড়িতে। আর ভোরের দিকে যখন তাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য অটোরিকশায় তোলায় হয় তখন দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে কোনমতে উঠতে দেখা গেছে।

এছাড়া ঘটনার রাতে পাশের কুদরত উল্লাহ মার্কেটের বোর্ডিং থেকেও রায়হানের চিৎকার কান্নাকাটি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন একজন বোর্ডার।

আর দ্বিতীয় ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ কবর থেকে উত্তোলনের পর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডাক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, অতিরিক্ত আঘাতেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

এতকিছুর পরেও ঘটনার সাথে জড়িতদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। একারণে ক্ষোভ বাড়ছে সচেতন মানুষের মধ্যে। রোববার দুপুরেও রায়হানের নিজের এলাকারসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে আকবরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে গ্রেপ্তারের জোরালো দাবিও উঠছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ মহানগর পুলিশের দিকে আঙ্গুল তুলছেন। বরখাস্ত হওয়ার পর কিভাবে আকবর পালিয়ে যেতে পারলো- এসএমপির কমিশনারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তিনি এর জবাব চেয়েছেন।

জবাব চাইছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরানসহ অন্যান্য কাউন্সিলররাও। সিলেটের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, আকবর লাপাত্তা হলেও তার শেষ রক্ষা হবেনা। হয় সারাজীন তাকে পালিয়ে থাকতে হবে, না হয় আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করতেই হবে।

এদিকে পিবিআই’র পাশাপাশি রায়হান হত্যাকান্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করছেন রায়হানের পরিবারেরসহ সচেতন নাগরিকবৃন্দ।

সান নিউজ/এক/এস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্প-শি ফোনালাপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট...

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু

অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বাংলা এক...

নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে?

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাবেক স্প...

নিখোঁজ ওয়ালিউল্লাহ-মোকাদ্দাসের সন্ধানের দাবি ইবিতে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মোকাদ্দাস...

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কুষ্টিয়ায় বিজিবির প্রেস ব্রিফিং

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা