দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতের মধ্যেই আবহাওয়ার পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে ঢাকাসহ ১২টি অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে।
এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি বিভাগে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত বর্ষার অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের অবশিষ্ট এলাকাতেও এটি বিস্তৃত হতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু তাই নয়, দেশের কয়েকটি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নিচু এলাকা ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তাপমাত্রার বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে অন্যান্য এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অন্যদিকে রাতের তাপমাত্রা সারা দেশে সামান্য বাড়তে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী কয়েকদিন দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার সময় নদীপথে চলাচল ও খোলা স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।