ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে

এক বছরে ২২০ দুর্ঘটনায় নিহত ২৬

মো. নাজির হোসেন, মুন্সীগঞ্জ : ঘড়িতে তখন সময় দুপুর ২ টা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়ামুখী শ্রীনগর ফেরিঘাট যাত্রী ছাউনির সামনে। সেখানে হাসাড়া হাইওয়ে থানার একটি গাড়ি দাড়িয়েছিল। তার পাশে দাড়িয়ে গতি মাপার যন্ত্র নিয়ে দুই পুলিশ সদস্য সড়কে চলাচলকরা গাড়ির গতি দেখছিলেন। ঠিক সেময় সাই সাই করে মেরুন রংয়ের একটি প্রাইভেট কার মাওয়ার দিকে ছুটছিল। গাড়িটি নিয়ম অমান্য করায় পুলিশ সদস্যরা তাকে থামতে সংকেত দেন।

আরও পড়ুন : একদিনে ২২০০ বার ভূমিকম্প!

এতেও গাড়িটি কোন ভ্রুক্ষেপ না করেই সামনের দিকে এগোতে থাকে। পুলিশের ঐ সদস্যরা সড়কের কিছুটা মাঝখানে গিয়ে থামানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশকে তোয়াক্কা না করেই গাড়িটি চলে যায়। সে সময় পুলিশের ঐ সদস্যরা অসহায় দৃষ্টিতে গাড়ির দিকে তাকিয়েছিলেন।

ইতিমধ্যে জরিমানা গোনা অন্য ২ প্রাইভেটকার চালকও বিষয়টা দেখছিলেন।

সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সামনের ছাউনিতে থাকা পুলিশদের ফোন করে গাড়ি আটকাতে বলেন।

আরও পড়ুন : ভূমি বিরোধ থেকে ফৌজদারি বিরোধ

সে সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বলেন, সামনে আমাদের পুলিশের কেউ নেই। এভাবেই নিয়ম অমান্য করে চালকরা প্রতিদিন গাড়ি চালাচ্ছেন। আমরা তাদের থামাতে গেলে আমাদের উপর দিয়ে চালিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় প্রতিদিন এমনটা ঘটছে।

মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের সবর্চ্চো গতিসীমা ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানভেদ কোথাও ৪০ কিলোমিটারও রয়েছে। তবে মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ প্রতিটি যানবাহনের কেউ এ নিয়ম মানছে না। তারা নিজেদের মন-মর্জিমত ১২০-১৫০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। আগে যাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত প্রতিযোগীতা করছে।

আরও পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী‌কে শেখ আহমদের ফোন

নিয়মের মধ্যে রাখতে কখনো জরিমানা, কখনো মামলা করা হচ্ছে। আমাদের লোকবল কম। এক্সপ্রেসওয়ের উপর দিয়ে হাজার হাজার গাড়ি যাচ্ছে। একজনকে জরিমানা করতে গেলে, ফাঁকি দিয়ে অন্য গাড়ি গুলো চলে যাচ্ছে। শত চেষ্টার পরও কাউকে নিয়মের মধ্যে বেঁধে রাখা যাচ্ছে না। এর ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা।

এক্সপ্রেসওয়ে হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের জেলা গুলোর সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অল্প সময়ে আসা যাওয়া করার সুফল ভোগ করছেন এ পথের যাত্রী ও চালকরা। তবে যাত্রী, চালকরা কেউ সড়কের নিয়ম মানছে না। তাদের নিয়ম মানাতে নেই পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যসহ আধুনিক ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন : মেক্সিকোতে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ২৭

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য ৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার এবং জাজিরা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার।

সড়কটির ধলেশ্বরী ও ফরিদপুরে ২ টি টোলপ্লাজা রয়েছে। সড়কের এক পাশ থেকে আরেক পাশে যেতে ২১ টি পদচারী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

মুন্সীগঞ্জ সড়ক বিভাগের হিসাব বলছে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক বছরে এক্সপ্রেসওয়েতে ২৮৩ টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছেন ৩৭ জন এবং আহত হয়েছে ৩৯৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা থেকে মাওয়া অংশে ২২০ টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৬ জন এবং আহত হয়েছে ৩২৬ জন।

সড়ক সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সড়কে নিয়ম না মানার কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।

আরও পড়ুন : বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

হাসারা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম রাশেদুল হাসান বলেন, মহাসড়কে চলাচল করার ক্ষেত্রে অনেক যানবাহন আইন মানছে না। আইন না মানার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা প্রতিদিন তাদেরকে প্রসিকিউশনের মাধ্যমে জরিমানা করছি। এরপরও তাঁরা বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে।
আমরা চাই মহাসড়ক মানুষ, যানবাহন চলাচলের জন্য সব সময় নিরাপদ থাকুক।

সড়ক নিরাপদ রাখতে হলে, যারা যানবাহন চালাচ্ছেন, যারা যানবাহনে উঠছেন, প্রত্যেককেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ববান হতে। দুর্ঘটনা কমাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নয়তো আইন প্রয়োগ করেও মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না।

আরও পড়ুন : দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্যাস দুর্ঘটনায় ১৬ মৃত্যু

এক্সপ্রেসওয়ের আব্দুল্লাহপুর থেকে মাওয়া পর্যন্ত ঘুরে নিমতলা, হাসাড়া, ষোলঘর, বেজগাঁও, ফেরিঘাট, সমাসপুর যাত্রী ছাউনি ঘুরে চন্দ্রা, সার্বিক, সোনালি, মাদারিপুর, পরিবহন, হানিফ, অন্তরা, সাকুরা, ঈগল, আপন, গুনগুন, পদ্মা ট্রাভলস, শরীয়তপুর ইউনিক, ইলিশ, গাঙচিল পরিবহনের বাসসহ উভয়মুখী মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারগুলোকে বেপরোয়া চলাচল দেখা যায়।

ষোলঘর যাত্রী ছাউনিতে দাড়িয়ে দেখা যায়, ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালানোর কথা থাকলেও ১২০-১৫০ কিলোমিটার গতিতে সাইসাই করে গাড়ি যাচ্ছে। কোন কোন বাস আগে যাওয়ার প্রতিযোগীতা করছে। ছাউনির ভেতরে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠা-নামার কথা থাকলেও সড়কের মধ্যে থামিয়ে এ কাজ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

এ সময় ছাউনিতে অপেক্ষমান শ্রীনগরের খইয়ারগাঁও এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, একটা গাড়িও নিয়ম মানছে না। গাড়ির ফিটনেস ঠিক নেই। সড়ক নতুন হলেও ত্রুটি যুক্ত পুরনো গাড়িগুলোই এ সড়কে চলছে। চালকরাও উদাসীন। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছে। আগে যাওয়ার প্রতিযোগীতা করছে। নির্ধারিত স্থানে গাড়ি না রেখে যেখানে ইচ্ছে রাখছে।

এ কারণেই কিছুদিন পরপর দুর্ঘটনা ঘটছে। নিয়ম মানানোর জন্য সড়কে পর্যাপ্ত পুলিশ নেই। বিআরটিএর নিয়মিত দেখভাল নেই। সড়ক মনিটরের ব্যবস্থা নেই। তাই ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে আইন অমান্যকারীরা।

আরও পড়ুন : মা-ছেলেকে হত্যায় মূল হোতা গ্রেফতার

গত ২০ এপ্রিল ত্রুটি যুক্ত একটি ট্রাক নির্ধারিত স্থানে না রেখে ষোলঘর এলাকায় সড়কের মধ্যে রেখেছিল। দাঁড়িয়ে থাকা ঐ ট্রাকটিকে বেপরোয়া গতিতে পদ্মা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে ৫ জন মারা যায়।

সবশেষ গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু উত্তর থানা এলাকায় আরেক বেপরোয়া মাইক্রোবাসের ধাক্কায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য সহ ২ জনকে চাপা দিয়ে হত্যা করে।

আরও পড়ুন : খাদ্যের অবৈধ মজুতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী সোনালী পরিবহনের যাত্রী চেকিংয়ের দায়িত্বে থাকা মো. সোবাহান মোল্লা বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে এক থেকে দেড় শতাধিক পরিবহনের গাড়ি চলাচল করে। শুধুমাত্র নিয়ম না মানায় এসব গাড়ি প্রায় সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

গাঙচিল পরিবহনের একজন মালিক মাহমুদ আলম সবুজ বলেন, এই সড়কে প্রতিটি গাড়ির ১২০ স্পিডের উপরে চলে। চালকরা চালাতে বাধ্য হয়। কম গতিতে গাড়ি চালালে যাত্রীরা গাড়িতে উঠেনা। চালক-হেলপারকে গালি গালাজ করে। নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি না থামানোর পেছনেও তিনি যাত্রীদের দায়ী করেন।

আরও পড়ুন : আজ যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না

তিনি বলেন, যাত্রীরা নির্ধারিত স্থানে আসতে চান না। যে যেখানে আছেন সেখানে থেকে গাড়িতে উঠতে চান। নির্দিষ্ট স্থানে নামতেও চান না। যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে নামেন। এজন্য গাড়ির চালকরা ও সেখানে গাড়ি থামাতে বাধ্যহন।

মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কাশেম মোহাম্মদ নাহীন রেজা বলেন, যানবাহন, যাত্রী ও সড়কের ধরন অনুযায়ী গাড়ির গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ সড়কের কিছু দূর পরপর, সড়কের উপর, কোথাও সড়কের পাশে সাইন সিগন্যালের মাধ্যমে গতিসীমা প্রদর্শন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : একদিনে পানিতে ডুবে ৯ মৃত্যু

দুর্ঘটনাপ্রবল স্থানগুলোতে বিষয়টি আরো বেশি করে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ২১ টি স্থানে পাদচারী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

রাস্তার মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার বসানো হয়েছে। সেই সাথে বড় বড় সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হচ্ছে। এগুলোর মাধ্যমে গাড়ির স্পিড, গাড়ির নাম্বারসহ রেকর্ড করা হবে। যারা অতিরিক্ত গতি এবং আগে যাওয়ার প্রতিযোগীতা করবে, তাদেরকে খুব সহজেই সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সান নিউজ/এনজে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

শতবর্ষী বিদ্যালয়ের নাম পুনর্বহালের দাবি

নাটোর প্রতিনিধি : বড়াইগ্রামে শতাধিক বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত ঐত...

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রেসিড...

খাগড়াছড়িতে ইয়াবাসহ আটক ২

আবু রাসেল সুমন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক...

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

সান নিউজ ডেস্ক: প্রতি সপ্তাহের একেক দিন বন্ধ থাকে রাজধানীর ব...

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে ভোট চলছে

জেলা প্রতিনিধি: ৭৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ক...

আগুনে পুড়ল ৫ দোকান

জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলার শ...

মোটরসাইকেলে লরির ধাক্কা, নিহত ১

জেলা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ জেলায় লরির ধাক্কা মোটরসাইকেল আরোহী...

তুচ্ছ ঘটনায় মামলা 

জেলা প্রতিনিধি: এখন মানুষ মুরগি ধান খাওয়ার মতো ছোট ঘটনায়ও মা...

বগুড়ার হিমাগারে মিলল ২ লাখ ডিম 

জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ায় হিমাগারে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ২ লক্ষাধি...

পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম জেলার ব...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা