মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া ভাড়া তালিকাকে ঘিরে দেখা দিয়েছে চরম বিভ্রান্তি। ‘আদেশক্রমে—চালক সমীতিবৃন্দ’ উল্লেখ থাকা ওই তালিকাটি ভুয়া বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ উঠেছে, এই কাগজ দেখিয়ে ঈদ-উল-ফিতরের পর থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি প্রিন্ট করা কাগজ অটোরিকশায় টানানো ও চালকদের কাছে সরবরাহ করা হয়, যেখানে বিভিন্ন রুটে আগের তুলনায় বিভিন্ন রোডে ৫ টাকা করে ভাড়া বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। তবে এই ভাড়া নির্ধারণে কোনো সরকারি সংস্থা, বিআরটিএ বা প্রশাসনের অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমন কি কোন মালিক-চালক সংগঠনেরও।
এ বিষয়ে অটোরিকশা চালক মিজানুর রহমান বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি তালিকাটা সদর উপজেলা সিপাহীপাড় মোড়ে একজন ব্যক্তি তাদেরকে দিয়েছে। কিন্তু তার নাম জানেন না। তারা তালিকায় অনুয়ায়ী ভাড়া নিচ্ছে।
খালইস্ট এলাকার সাইদুর রহমান ইফতি জানান, তিনি ঈদের পর চর কিশোরগঞ্জ থেকে সদরে আসবেন। তার কাছ থেকে দু'শত টাকা ভাড়া নিয়েছে। ইচ্ছে মত অটোরিকশা চালকরা বেশি ভাড়া নিচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, চালকরা ওই তালিকাকে "নতুন নির্ধারিত ভাড়া” দাবি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, হঠাৎ করে এমন ভাড়া বৃদ্ধি তাদের জন্য অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।
সচেতন মহলের মতে, ‘চালক সমীতিবৃন্দ’-এর নামে এমন অস্পষ্ট ও অপ্রমাণিত ভাড়া তালিকা প্রকাশ সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আইনসম্মত নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কোনো স্বীকৃত পরিবহন সংগঠন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন ভাড়া তালিকা জারি করা হয়নি। ফলে এটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং বিভ্রান্তিকর বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ চালক-মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাসুদ রানার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা তাকে পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান বলেন, আমি ছুটিতে আছি। তার পরেও আমি এসিল্যান্ডকে বলে দিচ্ছি যেন বিষয়টি দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে একাধিক যাত্রীদের দাবি, দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ভাড়া নির্ধারণের স্বচ্ছ ঘোষণা দিতে হবে এবং ভুয়া তালিকা প্রচার ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কারা এমন নাম বিহীন ভাড়ার তালিকা করলো বিষয়টা খতিয়ে দেখা দরকার।
সান নিউজ/আরএ