পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া এলাকায় মা–বাবার ওপর হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাদেরই ছেলে মুহাম্মদ শাকিল শিকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে সামনে এসেছেন মাতা কোহিনুর বেগম ও পিতা রফিক সিকদার। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে মুহাম্মদ শাকিল শিকদার তার বাবা-মায়ের সঙ্গে অসদাচরণে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি তার পিতা-মাতার ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ চালান। এতে তার পিতা রফিক সিকদার আহত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শাকিল শিকদার নিজেই তার স্ত্রী মোসাম্মৎ মিম আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে পটুয়াখালী আদালতে গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে রোজ মঙ্গলবার ৩:৩০ অংশগ্রহণকারী এলাকার ব্যক্তিবর্গ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মা–বাবার প্রতি সন্তানের এমন আচরণ সমাজের জন্য অশনিসংকেত। এটি শুধু একটি পরিবারের বিষয় নয়, বরং আমাদের সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন।” তারা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই প্রশাসনের প্রতি তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ঘটনার পর থেকে রাঙ্গাবালী জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই প্রত্যাশা—সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হোক এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
সান নিউজ/আরএ