বাণিজ্য

৫ মিনিটে ঘরে বসেই খোলা যাবে ব্যাংক হিসাব

যে কোন ব্যাংকে বর্তমানে একটি হিসাব খুলতে গ্রাহককে বাধ্যতামূলক ‘নো ইউর কাস্টমার’ (কেওয়াইসি) পূরণ করতে হয়। ব্যাংকভেদে এই ফরম পূরণ করতে একজন গ্রাহকের ৫০-৭০টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। এ জন্য প্রায় ৩০ মিনিট সময় ব্যয় হয়। এরপর গ্রাহকের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে সত্যতা নিশ্চিত করে ব্যাংক হিসাব খোলা হয় । এতে একটি হিসাব খোলতে কয়েকদিন সময় লেগে যায়। এই পদ্ধতি পরিবর্তন করে দ্রুত সময়ে ব্যাংক হিসাব খোলার উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইলেক্ট্রনিক-নো ইয়োর কাস্টমার (ই-কেওয়াইসির)-এর আওতায় আনতে চাইছে দেশের সব ব্যাংকের গ্রাহকদের।এই পদ্ধতিতে মাত্র পাঁচ মিনিটেই ঘরে বসে গ্রাহকরা খুলতে পারবেন ব্যাংক হিসাব। এই হিসাব খুলতে প্রয়োজন হবে গ্রাহকদের আঙুলের ছাপের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র। একই পদ্ধতিতে খোলা যাবে পুঁজিবাজারের বিও হিসাব ও বীমা পলিসিও। এতে গ্রাহকপ্রতি হিসাব খোলা ও কেওয়াইসি সংরক্ষণের খরচ প্রায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে যাবে। এক বছরের মধ্যে এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে এ সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন তৈরি করে সার্কুলার আকারে জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারটি দেশের সব ব্যাংকের পাশাপাশি বিমাকারী প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকার, পোর্টফোলিও ম্যানেজার ও মার্চেন্ট ব্যাংকার, সিকিউরিটি কাস্টডিয়ান, সম্পদ ব্যবস্থাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাকারী সব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব ই-কেওয়াইসির আওতায় আনতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, পাঁচটি ধাপে ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একজন গ্রাহক আর্থিক হিসাব খুলতে পারবেন। আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অথবা আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা এজেন্টের বাসায় উপস্থিত হয়ে অথবা ঘরে বসে নিজে নিজেই হিসাব খুলতে পারবেন গ্রাহকরা। ফলে ই-কেওয়াইসি চালুর কারণে অতি সহজে আর্থিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

বিএফআইইউ বলছে, বর্তমান সরকারের ভিশন-২০২১ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতি ঘরে ঘরে স্বল্প খরচে আর্থিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া। এছাড়াও এর ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন, আর্থিক খাতে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ডিজিটাল সেবা চালু আছে।

সম্প্রতি সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ‘মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্রের স্ট্রাটেজি নম্বর-০৮ এর অ্যাকশন আইটেম নং-০৯ এ রিপোর্টিং সংস্থাগুলোর জন্য ডিজিটাল কেওয়াইসি বা ই-কেওয়াইসি ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য বিএফআইইউকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধে শাহবাজ শরিফেরও ঝুঁকি ছিল: ট্রাম্প

মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনের ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ভারত ও...

আহসান এইচ মনসুর বাদ; নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর করা হয়েছে মো. মোস্তা...

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর সমাচার

ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি অভিযান চালিয়ে ১২ লক্ষ টাকার মাদক আটক করেন॥ দিনাজপুরে...

কেশবপুরে জাটকা ইলিশ বিক্রি করায় ব্যবসায়ীকে জরিমানা 

যশোর জেলার কেশবপুর পৌর শহরের মাছ বাজারে জাটকা ইলিশ মাছ বিক্রি করার অপরাধে কাম...

রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে এমপি জাহান্দার আলী জাহানের মনিটরিং

পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিংয়ে নেমেছেন জাহান্দ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা