শিক্ষা

দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান ঢাবি ভিসি

আমার বাঙলা ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান জানিয়েছেন, ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে তিনি সরে দাঁড়াতে চান। তবে ধারাবাহিকতা রক্ষায় সরকার চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলে।

উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি দায়িত্ব নেন একটি বিশেষ ও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল, প্রশাসনিক কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রথম লক্ষ্য ছিল একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীলতায় ফেরানো।

প্রায় দেড় বছর পর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখনো সীমাবদ্ধতা আছে, তবে সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। আপৎকালীন পরিস্থিতি আমরা উত্তরণ করতে পেরেছি।

উপাচার্য জানান, তিনি কখনোই এ দায়িত্বকে নিয়মিত চাকরি হিসেবে দেখেননি। উপাচার্যের দায়িত্বটি আমার কাছে ছিল একটি আমানতের মতো। ছাত্রদের অনুরোধ এবং ভালোবাসায় আমি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম।

নিজের সরে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিলে তারা যেন নিজেদের মতো করে প্রশাসন সাজাতে পারে এটাই আমি চাই, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিক এবং আমরা তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করব৷

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, হঠাৎ করে কোনো শূন্যতা বা প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করার পক্ষে তিনি নন। এ কারণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে তিনি রাজি আছেন।

দায়িত্বকালে অর্জনের কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে, হল সংসদগুলো কার্যকর হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি হয়েছে, টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাংকিংয়ে প্রায় ২০০ ধাপ উন্নতি, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও প্রকাশনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে, যা আবাসন, একাডেমিক ভবন ও গবেষণা অবকাঠামোর ঘাটতি অনেকটাই কমাবে।

উপাচার্য বলেন, তিনি সরকারকে দ্রুত তার ডেপুটেশন প্রত্যাহার করে মূল শিক্ষকতার দায়িত্বে—উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে—ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করবেন।

“অনেকদিন কঠিন পরিশ্রম করেছি। এখন আমার কিছু বিশ্রাম প্রয়োজন,” বলেন তিনি।

সান নিউজ/আরএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

পারস্য উপসাগরে ২১৯০ জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক আটকা

পারস্য উপসাগরে এক নজিরবিহীন মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট বিরাজ করছে। ইরানের কঠোর অ...

শ‌নিবার জামায়াত জোটের বি‌ক্ষোভ সমা‌বেশ

গণ‌ভো‌টের ফলাফল অনুযায়ী সং‌বিধান সং‌শোধ‌নের দা&zwn...

দাম বাড়ল এলপিজির

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এপ্রিলে বেড়ে হয়ে...

হরমুজে আটকে পড়া ৬ বাংলাদেশি জাহাজ নিরাপদে পার হবে

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজ নিরাপদে পার হতে তেহরান সর্বাত্ম...

সংবিধান সংশোধনে কমিটি আসছে: চিফ হুইপ

সংবিধান সংশোধনে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা