দেশের চার জেলার পাঁচটি পয়েন্টে নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
অন্যদিকে, রংপুরের কাউনিয়া এলাকায় তিস্তা নদীর পানি সাময়িকভাবে বিপদসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন স্বাক্ষরিত বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে নীলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তা, সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা, সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা এবং নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমেছে। আগামী একদিন পানি স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে আরও কমতে পারে। এতে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সময়ে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের যাদুকাটা, ভুগাই-কংস ও সারিগোয়াইন নদীর পানিও কমেছে। তবে সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়েছে। আগামী একদিন পানি স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে কমতে পারে। ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার পর উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী একদিন পানি স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে কমতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটে তিস্তা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আগামী ২৪ ঘণ্টায় উন্নতি হতে পারে।
তবে রংপুরের কাউনিয়া স্টেশনে তিস্তার পানি সাময়িকভাবে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে, যার ফলে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী তিন দিনে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাঘট, আত্রাই, আপার আত্রাই, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আপার করতোয়া এবং করতোয়া নদীর পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
সান নিউজ/ জামান