সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল এবং মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
ঘটনার তিন দিনের মধ্যেই পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে নাম উল্লেখ করা ছয়জনসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। তবে যেসব আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যাপ্ত নয় এবং ভুক্তভোগীও তাদের শনাক্ত করেননি। তাই এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
সান নিউজ/ জামান