সারাদেশ

ভোলায় বেপরোয়া লঞ্চের ধাক্কায় এক নারী যাত্রীর পা বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভোলা : ভোলার দৌলতখানে বেপরোয়া লঞ্চের ধাক্কায় কহিনুর (৪০) নামের এক নারী যাত্রীর পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শনিবার রাতে ঢাকাগামী ফারহান-৫ নামের একটি লঞ্চ ঘাটে ভিতরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের উপর উঠিয়ে দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার সালাউদ্দিনের স্ত্রী কহিনুর বেগম ঢাকা যাবার উদ্দেশ্যে লঞ্চে ওঠার জন্য পল্টুনে অপেক্ষা করছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে টিপু কোম্পানির এমভি ফারহান-৫ নামের লঞ্চটি বেপরোয়া গতিতে ঘাটে এসে পল্টুনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের উপর তুলে দেয়। এতে কহিনুর বেগমের বা পায়ের হাটুর নিচের অংশ সম্পুর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে দৌলতখান হাসপাতালে এবং ওই রাতেই বরিশাল শেবাচিমে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ ভোলা-ঢাকা নৌরুটের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না। মানছে না নৌ ট্রাফিক আইন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং নদীতে বেপরোয়াভাবে চলাচলের কারণে জানমালের ক্ষতি হলেও তারা থেকে যায় আইনের ধরা ছোয়ার বাইরে। নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, ২০১৭ সালে টিপু কোম্পানির এমভি ফারহান নামের ঢাকাগামী লঞ্চ ভোলার আলিমুদ্দিন বাংলাবাজার এলাকায় একটি জেলে নৌকায় ধাক্কা দিলে নৌকাটি ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় মিরাজ, কামাল নামের দুই ভাই এবং তাদের ভাতিজা জসিম নিহত হন।

এছাড়া ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর তুজমদ্দিন লঞ্চঘাট এলাকায় এমভি ফারহান লঞ্চের ধাক্কায় একটি জেলে ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনার ৩ দিন পর ওই নৌকায় থাকা আল আমিন (১৯) নামের এক জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১০ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক মো: কামরুজ্জামান উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দিয়েছেন। কোন আইনী পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান জানান, লঞ্চগুলো অনেক সময়ই নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এ ধরণের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তকে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে দোষী নৌযানের মাস্টারের সনদ বাতিল এবং নৌযানের রুটপারমিট বাতিলেরও বিধান রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে এ ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না তা তিনি জানাতে পারেননি।

নৌযান সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ যেসব নৌযান বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে এ ধরণের দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে ওইসব নৌযানের মালিকদের সাথে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যোগসাজস রয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, আইনের চোখে সবাই সমান। শনিবার দুর্ঘটনায় পা হারানো যাত্রীর বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। লঞ্চের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বিগত দিনে দুর্ঘটনায় পতিত ট্রলারগুলোর লাইসেন্স নেই, অনুমোদন নেই। তা ছাড়া তাদের মালিকরা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ না দিলে ব্যবস্থা নেয়া যায় না।

সান নিউজ/আইআর/এনকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

দিল্লিতে বাংলাদেশসহ ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ...

বাড়লো ফার্নেস অয়েলের দাম ঘোষণা, রাত ১২টা থেকেই কার্যকর

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্...

ডেঙ্গুতে চলতি বছরে প্রাণহানি বেড়ে ২৪৫

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের...

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯৪৮

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতু...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা