মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভুয়া পরিচয় দিয়ে ফোনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯:৩০ মিনিটে সাটুরিয়া ভূমি অফিসের কর্মী সুজন আহমেদের ব্যবহৃত মোবাইলে +৮৮০১৯৫০৬০০২১৬ নম্বর থেকে একটি ফোন আসে। অপর প্রান্ত থেকে নিজেকে 'সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা' পরিচয় দিয়ে বলা হয়, "আমি তোমার ইউএনও স্যার, এটি আমার ব্যক্তিগত নম্বর। তুমি এখন কোথায় আছো?" সুজন আহমেদ বাসায় আছেন জানালে, তাকে অবিলম্বে বাজারে গিয়ে সাটুরিয়ার কাঠের মিল (সমিল), বড় ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী এবং বড় ওষুধের দোকানের তালিকা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ মনে করে সুজন আহমেদ সরল বিশ্বাসে তথ্য ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রদান করেন।পরবর্তীতে প্রতারক চক্রটি প্রাপ্ত নম্বরে ফোন করে নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিকট টাকা (চাঁদা) দাবি করতে শুরু করে।
চাঁদা দাবির বিষয়টি ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা পুনরায় সুজন আহমেদকে জানালে তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে পড়েন।
তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ইউএনও-এর পিএস রাহাতের সাথে যোগাযোগ করেন। পিএস রাহাত ঘটনাটিকে প্রতারক চক্রের কাজ বলে সন্দেহ করেন। এরপর সুজন আহমেদ সরাসরি সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। ঘটনাটি শোনার পরপরই ইউএনও নিশ্চিত করেন যে, এটি একটি ভুয়া পরিচয়ে সংঘটিত প্রতারণা।
এ ঘটনায় সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, প্রতারক চক্র ইউএনও-এর ভুয়া পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে টাকা দাবি করছে। ইউএনও স্পষ্ট জানান, তার একমাত্র অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর ০১৭১৩-৩৫৩৩১৭। এই নম্বর ব্যতিরেকে অন্য কোনো নম্বর থেকে তিনি বা তার কার্যালয় কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা নির্দেশ প্রদান করে না। এ ধরনের ফোন কল পেলে সতর্ক থাকার জন্য সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সান নিউজ/ জামান