আমরা দেশের শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)
জাতীয়
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর

আমরা দেশের শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর

সান নিউজ ডেস্ক : আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি আশা করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো, ইনশাল্লাহ।

আরও পড়ুন : শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সরকার প্রধান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমি পার্বত্য জেলাসমূহের জনগণ ও দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই আওয়ামী লীগ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এ ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ব ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জাতিগত হানাহানি বন্ধ হয়। অনগ্রসর ও অনুন্নত পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় শান্তি ও উন্নয়নের ধারা। ইউনেসকো শান্তি পুরস্কার অর্জন এ চুক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির স্মারক ।

আরও পড়ুন : এইডসে মারা গেছেন ২৩২ জন

তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম আধুনিকতার ছোঁয়া বিবর্জিত পশ্চাৎপদ পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনেন এবং পার্বত্যবাসীর জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

আঞ্চলিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের সম-সুযোগ প্রদানের ব্যবস্থা নেন। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭৩ সালের জুন মাসে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৫ পরবর্তী অগণতান্ত্রিক সরকারগুলো পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বাঙালি-পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভেদ সৃষ্টি করে। খুন, অত্যাচার-অবিচার, ভূমি জবরদখল এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার এ অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে।

আরও পড়ুন : ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা মাস ঘোষণার দাবি

তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারও ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ঐতিহাসিক এই শান্তিচুক্তির চরম বিরোধিতা করে পার্বত্য অঞ্চলকে পুনরায় অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল। তাদের এ হীন উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার শান্তিচুক্তির আলোকে পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সব খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : জোড়া শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

সরকার প্রধান বলেন, আমরা এরই মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলে ৪২টি সেতু উদ্বোধন করেছি। পার্বত্য অঞ্চলের সব বেইলি ব্রিজ অপসারণ করে অচিরেই নতুন সেতু নির্মাণ করে দেবো। রাঙ্গামাটিতে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

ভূমি বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত ভূমি কমিশন কর্তৃক বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলায় উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য এলাকার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না সেসব এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ অব্যাহত রয়েছে। পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে এ অঞ্চলের নারী ও শিশুদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের জন্য টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : বাংলাদেশকে ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

তিনি আরও বলেন, পার্বত্যবাসীদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং গবেষণাসহ তাদের সঙ্গে সমতল ভূমির জনগণের সেতুবন্ধন স্থাপনের লক্ষ্যে ঢাকার বেইলি রোডে প্রায় ২ একর জমির ওপর একটি শৈল্পিক ও নান্দনিক কমপ্লেক্স ‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র’ নির্মাণ করা হয়েছে।

পার্বত্য জেলাসমূহের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্পের প্রসারে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমাদের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে আজ পার্বত্য জেলাসমূহ পিছিয়ে পড়া কোনো জনপদ নয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এ অঞ্চলের জনগণ সম-অংশীদার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সান নিউজ/এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

উলিপুরে ২১ দিন ধরে নিখোঁজ ১০ বছরের শিশু লতিফুল

কুড়িগ্রামের উলিপুরে নিখোঁজের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি ১০ বছরের শ...

এয়ারটেলের নতুন পরিচয় ‘সার্কেল’,

মোবাইল অপারেটর ব্র্যান্ড এয়ারটেল নতুন পরিচয়ে ‘সার্কেল’ নামে যাত্র...

টঙ্গীবাড়িতে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছ...

বোয়ালমারীতে  গণধর্ষণের দায়ে  তিনজনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ...

মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের সরকারি জায়গা দখল করে নতু...

শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের কথা ভাবছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে...

রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৮৮

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে ৪৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢ...

দুর্যোগ মোকাবিলায় ১২ রেসকিউ স্পিডবোট হস্তান্তর

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-...

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, লড়ছেন ফখরুল-অলি আহমেদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই প্রার্থীর কেউই প্রার্থিতা প্রত...

পিরোজপুরে মাদক, চুরি ও ছিনতাই রুখতে ডিসি-এসপিকে স্মারকলিপি  

পিরোজপুর সদর উপজেলা কলাখালী ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই ওয়ারেন্ট ভুক্...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা