ঐতিহ্য ও কৃষ্টি

ইসলাম প্রচার কাজ করছে কোলন মসজিদ

মুহাম্মদ ইলিয়াছ আরমান

কোলন মসজিদ অ্যান্ড ইসলামিক সেন্টার। এটি হংকংয়ের বিখ্যাত নাথান রোডে ভিক্টোরিয়া হার্বারের পাশে ও প্রসিদ্ধ পর্যটনকেন্দ্র কোলন ন্যাশনাল পার্কের পাশ ঘেঁষে নির্মিত। ইতিহাসের প্রাপ্ত তথ্য মতে, এটি হংকংয়ের দ্বিতীয় মসজিদ। নির্মিত হয় ১৮৯৬ সালে। বর্তমানে এই মসজিদে একসাথে তিন হাজার পাঁচশত মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

প্রাচীন ইসলামি স্থাপত্য শৈলীর অনুকরণে স্থপতি আই এম কাদেরীর নকশায় নির্মিত এই মসজিদ ও ইসলামি সেন্টারটিকে হংকংয়ের মুসলিম সম্প্রদায়ের জাতিসত্তার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।

মসজিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- চার কোণে চারটি ১১ মিটার উঁচু মিনার। মসজিদের প্রধান গম্বুজটি পাঁচ মিটার ব্যাস ও নয় মিটার উঁচু। একটি ক্লিনিক ও সুবিন্যস্ত একটি ইসলামি গ্রন্থগার রয়েছে মসজিদে। এছাড়া মসজিদের মেঝে ও প্রবেশপথে সাদা মার্বেল পাথর দ্বারা সজ্জিত দৃষ্টিনন্দন আলপনা রয়েছে।

মসজিদের প্রথম ফ্লোরটি নিয়মিত নামাজের জন্য ব্যবহার হয়। এখানে একসাথে এক হাজার মুসল্লির সংকুলান হয়। দ্বিতীয় ফ্লোরে ছোট্ট পরিসরে নারীদের নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রয়েছে।

ইতিহাস সূত্রে প্রমাণিত যে, ১৮৯৬ সালে ১৫০০ বর্গমিটার জায়গায় কোলন মসজিদ নির্মিত হয়। ১৯০২ সালে ২২ জানুয়ারি ব্যাপক সংস্কার হয়। এটি মূলত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ভারতীয় মুসলিম সৈন্যদের জন্য নির্মাণ করা হয়।

নির্মাণের পর প্রায় ৮০ বছর পর্যন্ত সুন্দরভাবে চলছিল মসজিদ। ১৯৭৬ সালে মসজিদের পাশেই মেট্রো লাইনের ট্যানেল করার সময় মসজিদ-ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন মসজিদের ট্রাস্ট্রি বোর্ড— সরকারের কাছে পুরাতন মসজিদের জায়গায় একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমতি চায়।

১৯৭৭ সালের ৩ ডিসেম্বর সরকারি অনুমতি লাভ করে কর্তৃপক্ষ। ১৯৭৮ সালের ৪ জুলাই মসজিদের ডিজাইন সরকারের কাছে সাবমিট করা হয়। ১৯৭৮ সালের ১৩ অক্টোবর প্রস্তাবিত ডিজাইন আনুমোদন করে দেশটির প্রশাসন।

১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে পুরাতন মসজিদ ভাঙা শুরু হয়। ১৯৮১ সালের ৬ মার্চ নতুন মসজিদ নির্মাণের কাজ উদ্বোধন হয়। ১৯৮৪ সালের ১১ মে জুমাবার মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। মসজিদ নির্মাণের ব্যয় হয় প্রায় ২৫ মিলিয়ন হংকং ডলার।

নব নির্মিত মসজিদ কমপ্লেক্সের নতুন সংযোজন হলো— বালক-বালিকাদের জন্য পৃথক দুইটি মাদরাসা-ভবন, লাইব্রেরি ভবন ও অডিটোরিয়াম ভবন। বিভিন্ন উপলক্ষে ইসলামি সংস্থাগুলো নানা সেমিনার সেম্পোজিয়াম আয়োজন করে মসজিদ অডিটোরিয়ামে।

মসজিদ-কর্তৃক পরিচালিত মাদরাসা দুইটিতে অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন দাওয়াতি প্রোগ্রামও আয়োজন হয় নিয়মিত। যেমন- আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স, ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় দৈনিক দারস তাফসির ও অমুসলিমদের জন্য ইসলাম পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

২০০৪-২০০৫ অর্থ-বছরে প্রায় ১৪ মিলিয়ন হংকং ডলার ব্যয়ে পুনরায় মসজিদ কাম ইসলামি সেন্টারটির সংস্কার হয়। লাইব্রেরি ও অডিটোরিয়াম ভবন— সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হয়। নতুন করে নির্মাণ করা হয়— মসজিদ কাম ইসলামি সেন্টারের প্রশাসনিক ভবন। মসজিদ কাম ইসলামি সেন্টার কর্তৃক পারিচালিত উভয় মাদরাসায় বর্তমানে ২০০ জন করে ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে।

লেখক : মুহাদ্দিস, ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদরাসা, কক্সবাজার।

সাননিউজ/এমএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

আজ মহান মে দিবস

আজ পহেলা মে; আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিনটি মে দিব...

বৃষ্টি ও তেলের দামের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে

বৃষ্টি আর পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে রাজধানীর ব...

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশু...

প্রথম বাংলাদেশি বাবরের বিশ্বের পঞ্চম উঁচু পর্বতশৃঙ্গ মাকালু জয় 

নিজেকে আরেক ধাপ উচ্চতায় তুলে নিলেন পর্বতারোহী বাবর...

ইউনিসেফকে উপেক্ষা করে টিকা ক্রয় পদ্ধতি বদল অন্তর্বর্তী সরকারের

বাংলাদেশে টিকার সংকট ও টিকাদান কর্মসূচি ব্যাঘাতের...

ছোট বন্ধুরা, বাংলাদেশ তাকিয়ে তোমাদের দিকে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষুদে শিক্ষার্থ...

মুন্সীগঞ্জে সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলামের স্মরণসভা 

মুন্সীগঞ্জে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা প্রয়াত...

কেন ধানমণ্ডি লেকের নাম নজরুল লেক হওয়া উচিত

সম্প্রতি ইউটিউবে নজরুল ইন্সটিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ড...

বৃষ্টির দিনে ঘুম বেশি আসার কারণ কী?

আকাশ ভেঙে নেমে আসা বৃষ্টির ধারায় মানুষ ও প্রাণিকূল...

সঞ্জয়ের ৩০ হাজার কোটি রুপির সম্পত্তির কী হবে

বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের সাবেক স্বামী সঞ্জয়...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা