ছবি : সংগৃহিত
শিক্ষা

সিজিপিএ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন

সান নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের সব মেডিকেল কলেজে সিজিপিএ (কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ বা চার বছরের মোট ফলাফলের গড়) পদ্ধতি বাতিল করে ক্যারিঅন পদ্ধতি বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন করছেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা৷

আরও পড়ুন : স্কুল বন্ধ রেখে মন্ত্রীর ছেলের বৌভাতে শিক্ষকরা

দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের লিখিত দাবিসমূহ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) সভাপতি বরাবর দেওয়ার কথা রয়েছে ৷ পাশাপাশি আগামী ১১ জানুয়ারির মধ্যে দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা৷

রোববার (৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজসহ দেশের বেশিরভাগ মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন ৷

এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থায় বিএমডিসি কর্তৃক নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে৷ এ কারিকুলামে সিজিপিএ পদ্ধতি চালু এবং ক্যারিঅন পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে ৷ কিন্তু অবকাঠামোগত পর্যাপ্ত পরিবর্তন না এনে পূর্বে চালু থাকা ক্যারিঅন পদ্ধতি বাতিল করে সিজিপিএ পদ্ধতি চালু করা বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে৷

আরও পড়ুন : শীতার্তদের পাশে এন.এস.ইউ সোশ্যাল সার্ভিসেস ক্লাব

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা গুরুত্বপূর্ণ৷ কিন্তু সিজিপিএ পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটলে এ সহযোগিতা-সহমর্মিতার লোপ ঘটবে৷

তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ভালো বা খারাপ ডাক্তার হওয়া নির্ভর করে তার দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার ওপর৷ এ অবস্থায় সিজিপিএ পদ্ধতি চালু করে ডাক্তারদের দক্ষতার মাপকাঠি নির্ণয় করা শিক্ষার্থীদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেবে৷ যে শিক্ষার্থী ক্লাসে ভালো তিনি প্র্যাকটিক্যাল সার্জারিতে অদক্ষও হতে পারেন৷ সুতরাং শুধুমাত্র সিজিপিএ দিয়ে বিচার করার পদ্ধতি বন্ধ করা উচিত৷

আরও পড়ুন : বিশ্ববিদ্যালয় বেকার তৈরির কারখানা

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদ মনে করেন, কারিকুলামে পরিবর্তন যদি আনতেই হয় তাহলে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন আনতে হবে৷ কিছু পদ্ধতি পুরোনো রেখে কিছু পদ্ধতি নতুন সংযোজন হলে আমাদের স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, যদি সিজিপিএ পদ্ধতি চালু করা হয় তাহলে সেমিস্টার চালু হোক এবং পরীক্ষায় পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত পরিবর্তন করা হোক ৷ যেমন কেন্দ্রীয় ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটানো থেকে শুরু করে পক্ষপাতিত্ব না হওয়া নিশ্চিত করতে যা যা পরিবর্তন প্রয়োজন সেগুলো সমন্বয় করা হোক৷ এটা নিশ্চিত করতে না পারলে ক্যারিঅন পদ্ধতি পুনর্বহাল রাখা হোক ৷

আরও পড়ুন : খণ্ডকালীন শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ানদের প্রশিক্ষণ

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তুষার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, তাকে বাধ্যতামূলক ছয় মাস বসে থাকা লাগবে ৷ ফলে সে ব্যাচ থেকে ছিটকে পড়বে ৷ অন্যদিকে কলেজগুলো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে ৷

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দেশে প্রতিটি পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর ভাইভা পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়। ভাইভা পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষকের সামনে থ্রোট ব্লক, স্ট্রেস, প্যানিক অ্যাটাক বা অন্য যেকোনো কারণে ভাইভা খারাপ করতেই পারে।

আরও পড়ুন : খণ্ডকালীন শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ানদের প্রশিক্ষণ

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমাদের দেশের দীর্ঘতম গ্রাজুয়েশন কোর্স এমবিবিএস ৷ ইন্টার্নশিপসহ যার স্থায়ীত্ব প্রায় ছয় বছর ৷ কিন্তু নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী দুর্ভাগ্যবশত অকৃতকার্য হলে তাকে ছয় মাস বসিয়ে রাখা কোনো যৌক্তিকতা বহন করে না। এভাবে ছয় বছরের ডিগ্রি নিতে কারও ১০ বছরও লাগতে পারে ৷ এতে শিক্ষার্থীদের পড়বে বিষণ্নতায় ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যারিঅন সিস্টেম না থাকলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা নেপটিজমের স্বীকার হবে। প্রবণতা বাড়বে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানোর।

সান নিউজ/জেএইচ/এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

বোয়ালমারীতে  বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফারদিন (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছ...

অরিজিতের প্লেব্যাক ছাড়ার সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত নয় : আমাল মালিক

চলতি বছরের শুরুতে হিন্দি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক গান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়...

সাভার ডেইরী ফার্মে বহিরাগতের হামলায় এক কর্মচারী মৃত্যুশয্যায় 

সাভার কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধখামারে (ডেইরীফার্ম) বহিরাগত এক বখাটের মারধরে...

তরুণ কলাম লেখক ফোরামের আইন বিষয়ক সম্পাদক নোবিপ্রবির রেদোয়ান

‎বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের কেন্দ্রীয় নির্বাহী...

ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের নতুন সচিব মোহসেন রেজায়ি

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) নতুন সচিব হিসেবে সাবেক ইস...

কুষ্টিয়ায় তালিমুল কোরআন মাহফিলে দুষ্কৃতকারীদের হামলার অভিযোগ  

কুষ্টিয়ার মিরপুরে তালিমুল কোরআন মাহফিলে দুষ্কৃতকারীদের হামলা, মহিলাদের লাঞ্ছন...

নেপালে ৯ মাস পর ৫ পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার

‘হিমালয় কন্যা’ নামে পরিচিত নেপালের ইয়ালুং রি পর্বত থেকে নিখোঁজ হও...

সাকিব আল হাসান ‘নষ্ট, পচে যাওয়া মানুষ’: ডা. জাহেদ

সাকিব আল হাসান ভালো ক্রিকেটার হলেও ‘নষ্ট ও পচে যাওয়া মানুষ’ বলে ম...

চাঁদপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, নিহত ৩

চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও...

ইসলামী ব্যাংকের উপশাখাসমূহের অর্ধ-বার্ষিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর ঢাকার চারটি জোন ও দুইটি কর্পোরেট শাখা, ময়মনস...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা