২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, যিনি একাই করেন তিনটি গোল। তবে ম্যাচজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শুধু তার হ্যাটট্রিক নয়, বরং গোল করার পর দেখা যাওয়া আবেগঘন মুহূর্ত।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই বল জালে পাঠিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।
তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। গোলের পর সতীর্থ ও দর্শকদের উল্লাস যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক ভিন্ন দৃশ্য। আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার চোখে জল দেখা যায়, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের আবেগের ব্যাখ্যা দেন মেসি। তিনি জানান, এই কান্নার পেছনে ফুটবল মাঠের কোনো ঘটনা দায়ী নয়।
মেসি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমি ব্যক্তিগত জীবনে কিছু কঠিন সময় পার করেছি। সেই মুহূর্তগুলো অতিক্রম করা সহজ ছিল না। তবে আমার সতীর্থরা সবসময় পাশে থেকেছে, আমাকে সাহস ও সমর্থন দিয়েছে। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। গোলের পর সেই অনুভূতিগুলোই হয়তো আবেগ হয়ে বেরিয়ে এসেছে।”
ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোলও করেন মেসি। ৭৬ মিনিটে শেষ গোলটি করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। এরপর ৭৯ মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। এটি ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে তার প্রথম হ্যাটট্রিক। পাশাপাশি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আরও উপরে উঠে আসেন তিনি।
এছাড়া টানা পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েছেন মেসি। এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন শুধুমাত্র পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবার সেই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় যুক্ত হলো মেসির নামও।
হ্যাটট্রিক, নতুন রেকর্ড এবং আবেগঘন মুহূর্ত—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই স্মরণীয় এক অধ্যায় রচনা করলেন লিওনেল মেসি।