মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের আটক করে গণপিটুনি, লাঞ্ছনা বা বাড়িঘর ভাঙচুর না করে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে আলোচিত তৌহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় মৃতদেহ উদ্ধারের স্থান পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আজম এবং বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, “দেশে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে জনবল ও লজিস্টিক সহায়তার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রত্যেক স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছানো সবসময় সম্ভব হয় না। ফলে অনেকের কাছে মনে হতে পারে আমরা কাজ করছি না। বাস্তবে গত মাসেই জেলায় ১৪০টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে আগের মাসগুলোতে সাধারণত ৯০ থেকে ১০০টি মামলা হতো। এ দিক থেকে এটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।”
তিনি বলেন, “সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ মাদকসেবী বা কারবারিদের ধরে গণপিটুনি দিচ্ছেন, লাঞ্ছিত করছেন এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করছেন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশে আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে, আদালত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। তাই কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।”
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “কোথাও মাদকসেবন বা মাদক বেচাকেনার ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিশকে খবর দিন। কোনো কারণে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক রেখে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করুন। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু মব সৃষ্টি করে মারধর, ভাঙচুর বা লাঞ্ছনার কোনো সুযোগ আইনে নেই।”
তৌহিদুল হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “এ মামলার প্রকৃত অপরাধী যেই হোক না কেন, তার পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রহস্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে এজাহারভুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।”
উল্লেখ্য,গত ৩ জুন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর একটি পাটখেত থেকে তৌহিদুল ইসলাম মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, ঘটনার আগে তিনি কয়েকজন বন্ধু ও প্রতিবেশীর সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি পাটখেতে ছিলেন। পরে সেখানে মাথায় আঘাতের চিহ্নসহ তার মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সান নিউজ/ জামান