লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শিশু নন্দিনী হত্যার ঘটনায় ভয়াবহ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রাম মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, যেখানে পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় জনতার মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সুপার, ওসি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
নিহত শিশু নন্দিনী (৭) স্থানীয় নলিনী কান্তের কন্যা। সোমবার বিকেল থেকে তাকে নিখোঁজ পায় পরিবার। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একই এলাকার বিধান চন্দ্র নামের এক যুবক নন্দিনীকে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে মরদেহ গোপনে পুঁতে রাখে। সন্দেহের ভিত্তিতে তার বাড়ি ঘেরাও করে জনতা এবং পরে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ আসামিকে হেফাজতে নেওয়ার পরই উত্তেজিত জনতা ‘নিজেরা বিচার করবে’ দাবি তুলে মব তৈরি করে। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
খবর পেয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ একাধিক থানার পুলিশ, ডিবি, ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু তারা পৌঁছানোর পরই বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরও অবরুদ্ধ করে ফেলে। প্রায় তিন ঘণ্টা জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে আটকে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান এবং বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও অবরুদ্ধ করা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং থেমে থেমে হামলা চলতে থাকে প্রশাসনের ওপর।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়। পরে অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রশাসন। তবে বিদায়ের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ সুপার, ওসি ও আরও অনেকে আহত হন।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ অন্তত ৮টি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, তিনি নিজেও ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনায় একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নন্দিনী হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবাকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় পৃথক মামলা করা হবে।
জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।