ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সার সরবরাহকারী দেশগুলোতে উৎপাদন, পরিবহন ও লজিস্টিক সংকট দেখা দেওয়ায় রাশিয়া থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউরিয়া সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডেলটা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসি (স্থানীয় এজেন্ট : আবেদিতা ট্রেডিং, ঢাকা) এবং রাশিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পিজেএসসি আরকনের কাছ থেকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) বিদ্যমান সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির মূল্যসূত্র অনুসরণ করে লটভিত্তিক মোট ১ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৪০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, দেশের চাহিদার তুলনায় উৎপাদিত ইউরিয়া সার যথেষ্ট নয়। ফলে নিয়মিতভাবে বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় সার সংগ্রহ করে থাকে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বৈঠকে রাশিয়া থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানি করা হবে।
এদিকে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পাশাপাশি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে দেশে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ইউরিয়া সার ও শিল্পখাতের কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৭০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৮ হাজার ৯৭৮ টাকার তিনটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কমিটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ৩৪৮ কোটি ৫৫ লাখ ৫৯ হাজার ৩০০ টাকা। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডেল্টা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসি (স্থানীয় এজেন্ট: আইবেডিটা ট্রেডিং, ঢাকা) প্রতিষ্ঠান থেকে এই সার আমদানি করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৭ দশমিক ০১ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে এফওবি মূল্য ৬০০ দশমিক ৮৩ ডলার, ফ্রেইট চার্জ ৭৫ ডলার এবং ব্যাগ, ব্যাগিং ও স্থানীয় পরিবহন ব্যয় ৩১ দশমিক ১৮ ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
একই বৈঠকে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৯তম লটের ২৫ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৮৫ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৪৩৭ টাকা ৫০ পয়সা। প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ দশমিক ৮৩ মার্কিন ডলার।
সান নিউজ/ জামান