বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসির নামের পাশে নতুন করে যুক্ত হলো আরও কয়েকটি ইতিহাস। বয়স নিয়ে সমালোচনা কিংবা শঙ্কার জবাব তিনি দিলেন নিজের স্বভাবসিদ্ধ উপায়ে—গোল করে, রেকর্ড গড়ে এবং দলকে জয়ের পথে এগিয়ে রেখে।
ক্যানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামা মেসি শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা।
ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি। পঞ্চম মিনিটে দূর থেকে নেওয়া তার একটি শট গোলের সম্ভাবনা তৈরি করলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। এরপর ১২ মিনিটে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।
তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের নিখুঁত পাস পেয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শট নেন মেসি। গোলরক্ষকের স্পর্শ লাগলেও বল জড়িয়ে যায় জালে। সেই গোলেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
প্রথমার্ধের পরও নিজের দাপট ধরে রাখেন এই তারকা ফুটবলার। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন তিনি। এরপর আরও একটি গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক, যা ম্যাচটিকে তার ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও স্মরণীয় করে তোলে।
এই ম্যাচটি ছিল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম উপস্থিতি। একই সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে মাঠে নামার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন রেকর্ড গড়ে তাৎক্ষণিকভাবে গোল করে উদযাপন করায় মুহূর্তটি আরও বিশেষ হয়ে ওঠে।
হ্যাটট্রিকের সুবাদে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৬-তে। এর ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি উঠে আসেন শীর্ষস্থানে, জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজার গোলসংখ্যার সমতায় পৌঁছে।
মজার বিষয় হলো, বিশ্বকাপে মেসির প্রথম গোলও এসেছিল ১৬ জুন তারিখে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচে গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছিলেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।
দুই দশক পর আবারও একই তারিখে (স্থানীয় সময় ১৬ জুন, ২০২৬) বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখলেন মেসি। একদিকে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ, অন্যদিকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার কাতারে ওঠা—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে থাকল আর্জেন্টাইন মহাতারকার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।
বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন পারফরম্যান্স দেখিয়ে মেসি বুঝিয়ে দিলেন, ফুটবল ইতিহাসে তার গল্প এখনো শেষ হয়নি; বরং প্রতিটি ম্যাচেই তিনি লিখে চলেছেন নতুন নতুন রেকর্ডের গল্প।