ব্র্যাক জানিয়েছে, গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী দেশে ফিরেছেন এবং তাদের বেশিরভাগই কোনো না কোনোভাবে নিপীড়নের শিকার। একই সময়ে ৮০০ নারীর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।
২০২৫ সালে ভাগ্য বদলের আশায় সৌদি আরবে যান শিউলি নামের এক নারী। সেখানে নির্যাতন থেকে বাঁচতে চাকরি পরিবর্তনের চেষ্টা করলে দালালের মাধ্যমে টিস্যু কোম্পানিতে কাজের প্রলোভন দেখানো হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগী শিউলি গণমাধ্যমকে জানান, একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে মারধর করা হতো, ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। সারাদিন কাজ করানো হতো এবং অমানবিক নির্যাতনের মধ্যে থাকতে হয়েছে তাকে।
এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বাড়ছে। ২০২৫ সালে শুধু মধ্যপ্রাচ্য থেকেই প্রায় ২ হাজার নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। একই সময়ে ৮০টি দেশ থেকে প্রায় ৭৪ হাজার পুরুষ কর্মীও দেশে ফেরত আসেন, যাদের বেশিরভাগই অবৈধভাবে গিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আরও প্রায় ২৪ হাজার কর্মী দেশে ফিরেছেন, যার মধ্যে পুরুষই ২৩ হাজারের বেশি।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, বিদেশে পাঠানোর আগে নারী কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বাছাই জরুরি। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরার পর যেন বিচার নিশ্চিত করা যায়, সে ব্যবস্থাও নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সৌদি, ওমানসহ কয়েকটি দেশে লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, ফলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে।
সান নিউজ/ জামান