ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, রাজধানীর সব রুটে বাস মালিকদের নিয়ে একটি একক কোম্পানি কাঠামোর অধীনে বাস চলাচল ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকার বাস ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলিত করতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে রুটভিত্তিক কোম্পানি ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলাচল করবে। এতে প্রতিযোগিতাজনিত বিশৃঙ্খলা কমবে এবং যাত্রীসেবার মান বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও অনিয়ন্ত্রিত বাস চলাচলের কারণে যানজট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, যা বন্ধ করা হবে। বাসগুলো নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজে থামবে এবং সেখান থেকেই যাত্রী উঠানামা করবে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, ঢাকার প্রধান বাস টার্মিনালগুলো পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে, মহাখালী টার্মিনাল উত্তরা–আব্দুল্লাহপুর এলাকায় এবং সায়েদাবাদ টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল কেরানীগঞ্জ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নতুন করে আধুনিক ডিপো তৈরি করা হবে, যার মধ্যে ৩০০ ফিট এলাকায় এবং কাঁচপুরে একটি বড় ডিপো থাকবে, যা ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ টার্মিনালে রূপান্তরিত হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে অনেক টার্মিনাল অপ্রয়োজনীয়ভাবে দখল হয়ে ওয়ার্কশপে পরিণত হয়েছে, যা শৃঙ্খলার বাইরে চলে গেছে। এসব অব্যবস্থাপনা দূর করতে সরকার ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকার প্রধান বাস টার্মিনালগুলো স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা অস্থায়ী কাউন্টারগুলোও সরিয়ে নেওয়া হবে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং যানজট ও বিশৃঙ্খলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।