সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তাদের বড় একটি অংশ বর্তমানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তবে অনেকের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ রেহানা বর্তমানে লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছেন। ওই সময় শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও তাদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা যায়।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), যিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাঁর অবস্থান নিয়েও দিল্লি ও দুবাইয়ের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) সরকার পতনের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীও যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।
নিকটাত্মীয়দের অবস্থান
শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যেও অনেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কলকাতায় রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ছেলে শেখ ফজলে নাঈমও সেখানে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম সরকার পতনের আগেই দেশ ছাড়েন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সরকার পতনের পর ভারত হয়ে কানাডায় যান বলে জানা যায়। পরে তিনি আবার ভারতে ফিরেছেন বলেও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সরকার পতনের আগেই ভারতে গেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। তাঁর ছেলে আশিক আবদুল্লাহও বাবার সঙ্গে ভারতে গিয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বড় ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। বাবা ও ছেলে দুজনই বরিশালের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বর্তমানে ভারতে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় তাদের অবস্থানের কথাও কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময় এবং শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও ভারতে রয়েছেন বলে জানা যায়। তবে শেখ সোহেলের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন বলে জানা যায়। তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশ ছাড়ার অভিযোগ
আওয়ামী লীগের দলীয় কিছু সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকে সীমান্তপথে ভারতে প্রবেশ করেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ ও আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে তারা দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী দেশ ছাড়তে না পারায় দলের ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে বলেও দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদে বলা হয়েছে।
সান নিউজ/ জামান